গত সোমবার বালিয়াকান্দি অডিটোরিয়ামে পেঁয়াজ, আমসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বেচাকেনায় ওজনে অনিয়ম প্রতিরোধে ব্যবসায়ী ও কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে উপজেলা প্রশাসন। সেখানে ইউএনওর কাছে কৃষকরা অভিযোগ করেন, ধলতার নামে মণপ্রতি তিন-চার কেজি বেশি পেঁয়াজ নেন ব্যবসায়ীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীরা নিজেদের পক্ষে যুক্তি দিয়ে ইউএনওর কাছে মণপ্রতি দুই কেজি করে ধলতার দাবি তোলেন। কিন্তু বিষয়টি বেআইনি হওয়ায় তাদের প্রস্তাবটি নাকচ করে দেন ইউএনও।
বহরপুর বাজারে আসা কৃষক বাদশা সিকদার জানান, তিনি সকালে ১৫ মণ পেঁয়াজ বিক্রির জন্য বহরপুর বাজারে আসেন। এসে দেখেন আড়তের সব দোকান তালাবদ্ধ। পেঁয়াজ বিক্রির জন্য তাঁর মতো দেড় শতাধিক কৃষক অপেক্ষা করছেন সড়কে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা তালা মেরে উধাও হয়ে গেছেন। উপায়ান্তর না পেয়ে মাশালিয়া বাজারে গিয়ে সেই পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন। তবে সেখানেও তাঁকে মণে ৪২ কেজি পেঁয়াজ দিতে হয়েছে।
একরজান গ্রামের ইদ্রিস মণ্ডল বলেন, পেঁয়াজ বিক্রির টাকা দিয়ে বাজার সদাই করবেন, সেই আশায় বহরপুর বাজারে চার মণ পোঁজ নিয়ে আসেন তিনি। কিন্তু বাজারে এসে দেখেন কোনো ব্যবসায়ী নেই। সব দোকান বন্ধ। এক পর্যায়ে পেঁয়াজ নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দেন তিনি। পথে অন্য একজনের কাছে কম দামে বিক্রি করে দেন। তাঁর সঙ্গে আরও চার-পাঁচ কৃষক ছিলেন। তাদেরও একই অবস্থা।
সোনাপুর বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা আসমত হোসেন জানান, ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজ চাষিদের ঠকাতে চাচ্ছেন। তারা ধলতার নামে মণপ্রতি তিন-চার কেজি করে বেশি পেঁয়াজ নেন। গতকাল মঙ্গলবার যেসব ব্যবসায়ী গুদাম বন্ধ করে পালিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় বাজারে অপেক্ষা করতে থাকেন কৃষকরা। এক পর্যায়ে ধৈর্যহারা হয়ে বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
সোনাপুর বাজারের ইজারাদার রমজান আলীর ভাষ্য, এই ঘটনায় কৃষকদের পাঁচ প্রতিনিধিসহ বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে বসবেন তারা। নিজেরা সমাধান করতে না পারলে পরবর্তী সময় ইউএনওর শরণাপন্ন হবেন।
তবে বহরপুর বাজারের ইজারাদার রুবেল আক্তার সুমনকে ফোন দিলে রিসিভ করেননি। ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) রাজবাড়ী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, যারা কৃষকদের জিম্মি করেছে, তাদের চিহ্নিত করতে হবে। এই সিন্ডিকেট ভেঙে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
ইউএনও চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীরা ধলতার নামে যে দুই কেজি পেঁয়াজ বেশি দাবি করছেন, সেটা অন্যায়। এটা প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। আইনের মধ্যে থেকে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে।