1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে প্রাথমিক দল ঘোষণা করল আর্জেন্টিনা ২০ বেডে ভর্তি ৮৭ শিশু, কক্সবাজারে হামের ভয়াবহতা বিরামপুরের বেপারীটোলা-গেন্দা বাজার সড়কে অনিয়ম নিয়ে ক্ষোভ: জনগণের টাকায় দায়সারা কাজের অভিযোগ বাংলাদেশের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচে জয়ের কোনো সুতীব্র তাড়না নেই স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের ৪৫ হাজার কোটি টাকা থেকে ইউনূস-নুরজাহান জুটির ব্যয় মাত্র ১৭% বাঁশখালীর আদি নিমকালী মন্দিরে দুর্ধর্ষ চুরি জুলাই আন্দোলনের মামলায় ব্যারিস্টার সুমনের জামিন বহাল সাংবাদিক শাকিল-রুপার জামিন, তবুও মিলছে না মুক্তি বেপরোয়া চট্টগ্রামের শিবির-সাজ্জাদের বাহিনী অবৈধ বালু উত্তোলনে ক্ষতবিক্ষত গড়াই তীররক্ষা বাঁধ, আতঙ্কে খোকসার নদীপাড়ের মানুষ

২০ বেডে ভর্তি ৮৭ শিশু, কক্সবাজারে হামের ভয়াবহতা

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
  • ১৫ সময় দর্শন

স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক

কক্সবাজারে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে হাম। জেলা সদর হাসপাতালের ২০ বেডের বিশেষ ‘হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে’ সোমবার ভর্তি রয়েছে ৮৭ শিশু, যা কখনো কখনো ছাড়িয়েছে ১০০ জনের ওপরে। জায়গা সংকটে মেঝেতেই চলছে এসব শিশুদের চিকিৎসা। এদিকে গত ৪০ দিনে জেলায় মারা গেছে ১৭ শিশু। সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ‘হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে’ একটি বেডে ঠাঁই হয়েছে ২ থেকে ৪ শিশুর। কোথাও মেঝেতে, কোথাও স্বজনের কোলেই চলছে চিকিৎসা। অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে ওয়ার্ডজুড়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা।

রামু থেকে আসা হাম আক্রান্ত শিশুর অভিভাবক সিরাজুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে রোগীর তুলনায় চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা অত্যন্ত কম। প্রয়োজনীয় অক্সিজেন ও নেবুলাইজার মেশিনেরও সংকট রয়েছে। বাধ্য হয়ে নিজের সন্তানের চিকিৎসার জন্য নতুন একটি নেবুলাইজার মেশিন কিনে এনেছি। তিনি জানান, একবার চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরার পরও শিশুর অবস্থার উন্নতি হয়নি। তাই আবারও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সাতদিন পর দ্বিতীয়বারের মতো রোববার হাসপাতালে ফের ভর্তি করাতে হয়েছে। হামে আক্রান্ত আরেক শিশুর বাবা জয়নাল আবেদীন অভিযোগ করে বলেন, আমার সন্তান তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না। প্রয়োজনের সময় নার্সদের ডাকলেও সহায়তার বদলে দুর্ব্যবহারের শিকার হতে হচ্ছে। তিনি বলেন, অসুস্থ শিশুদের প্রতি হাসপাতালের সেবায় আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে, যা অভিভাবকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে। আরেক রোগীর স্বজন কায়সার হামিদ বলেন, হাসপাতালে শয্যা সংকট এতটাই তীব্র যে এক বেডে দুই থেকে তিনজন শিশুকে রাখতে হচ্ছে। মাত্র ২০টি শয্যার বিপরীতে বর্তমানে শতাধিক রোগী ভর্তি রয়েছে। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় তার ভাগনিকে মেঝেতে বিছানা পেতে শুইয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, রোগীর মায়েদের ছাড়া অন্য কাউকে ওয়ার্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। ফলে স্বজনরা হাসপাতালের সিঁড়ি ও করিডোরে গাদাগাদি করে বসে থাকছেন, যেন স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে অপেক্ষা করছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, কক্সবাজারের সর্বোচ্চ সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান জেলা সদর হাসপাতাল। ২৫০ শয্যার এই হাসপাতালে হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় চালু করা হয়েছে বিশেষ ‘হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড’। কিন্তু ২০ বেডের সেই ওয়ার্ডেই সোমবার ভর্তি হয়েছে ৮৭ শিশু। রোগীর চাপ বাড়লেও তীব্র জনবল সংকট রয়েছে। ৮৭ শিশুর বিপরীতে এক শিফটে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ১ জন মেডিকেল অফিসার, ২ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও ৬ জন নার্স। সীমিত জনবল নিয়েই হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের। কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) শান্তনু ঘোষ বলেন, বর্তমানে হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ৮৭ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩০ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৩ জন। তিনি জানান, মাত্র ২০ শয্যার বিপরীতে এত বিপুল সংখ্যক রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা সেবা পরিচালনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আইসোলেশন ওয়ার্ড সচল রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা। তবে বর্তমানে সেখানে মাত্র পাঁচজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া গেলে রোগীদের আরও ভালোভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। সংকটের মধ্যেও ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসক ও সিনিয়র কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চালু রাখতে তারা সর্বাত্মকভাবে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি। আরএমও শান্তনু ঘোষ বলেন, ওয়ার্ডের স্থান সংকুলান না থাকায় অতিরিক্ত বেড স্থাপন সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত বিছানা পেতে এবং অনেক ক্ষেত্রে এক বেডে দুই থেকে তিনজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

কক্সবাজার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত কক্সবাজারে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ১ হাজার ৭৮৮ জন। এর মধ্যে ৪২৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১১৯ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। আর গত ৪০ দিনে জেলায় মারা গেছে ১৭ জন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host