ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌরশহরের মাঝ দিয়ে বয়ে চলা এক সময়ের ছোট যমুনা নদীর স্রোতে ভেসে যেত নৌকা, বর্ষায় জলধারা ছুঁয়ে দিত দুই তীর, সেই নদীকে এখন নদী বলে চেনার উপায় নেই। এই নদী এখন ময়লা-আবর্জনার স্তুপে ঢেকে প্রায় মৃতপ্রায় একটি খাল। পৌরশহরের নদীর মূল অংশে চাষ হচ্ছে ভুট্টা, পিঁয়াজসহ বিভিন্ন সবজি। পৌর এলাকার নানা প্রান্ত থেকে আসা বর্জ্য ফেলা হচ্ছে সরাসরি নদীর বুকে। ফলে পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে নদীর বড় এলাকা জুড়ে জমেছে ময়লার স্তুপ। ফুটব্রিজ ও জোড়া ব্রিজের আশপাশে জমে উঠেছে পচনশীল আবর্জনার স্তূপ। নদীর স্বাভাবিক স্রোত অনেকটাই স্তব্ধ। কোথাও কোথাও পানির অস্তিত্বই মিলছে না। স্থানীয়রা জানান, জেলার অনেক নদী খনন করা হলেও ফুলবাড়ীর ছোট যমুনা নদী খননের অভাবে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আশেপাশের এলাকাবাসী দীর্ঘদিন থেকে নদীর বুকে প্রায় সারাবছরই নানা ধরনের ফসল ও সবজি চাষ করে আসছে। প্রবীণ বাসিন্দাদের ভাষ্য মতে, নব্বই দশকেও এই নদী ছিল এলাকার প্রাণকেন্দ্র, ছিল বর্ষায় টইটুম্বুর জল, শুষ্ক মৌসুমেও চলত নৌকা। নদীপথেই চলত পণ্য পরিবহন, নদীকে ঘিরে ছিল জমজমাট ব্যবসা-বাণিজ্য। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পলি জমা, নাব্যতা হ্রাস, দখলদারি আর অব্যবস্থাপনায় নদীর সেই স্রোত থেমে গেছে। নদীতে বর্জ্য ফেলার ফলে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণী এই নদীতে নেই বললেই চলে, পানির রং কালো দুর্গন্ধযুক্ত। নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা জানান, পরিবেশ রক্ষায় ও নদীটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত খনন কাজ শুরু করা জরুরি। একই সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। অন্যদিকে, ফুলবাড়ী পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, নদীতে সরাসরি বর্জ্য ফেলা হচ্ছে না তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন পৌর প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।