দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ৪নং দিওড় ইউনিয়নের বেপারীটোলা থেকে গেন্দা বাজার পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও তদারকির ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, জনগণের কষ্টার্জিত টাকায় নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে শুরু থেকেই নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট, অপর্যাপ্ত খোয়া ও দুর্বল বালু ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক স্থানে ইটের সলিং সঠিকভাবে বসানো হয়নি। কোথাও কোথাও ভাঙা ও নিম্নমানের ইট ব্যবহারের কারণে কাজ শেষ হওয়ার আগেই রাস্তার বিভিন্ন অংশ দেবে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর এলাকাবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে এলজিইডির অধীনে সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে শুরু থেকেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, ঠিকাদার মোঃ তোফাজ্জল হোসেন প্রভাব খাটিয়ে দায়সারাভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মাণস্থলে এলজিইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিয়মের সুযোগ পাচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী সুরুজ আলীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, যথাযথ তদারকি থাকলে এমন নিম্নমানের কাজ সম্ভব হতো না।
একাধিক সচেতন ব্যক্তি জানান, সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও মাঠপর্যায়ে কিছু অসাধু ঠিকাদার ও দায়িত্বহীন কর্মকর্তার কারণে সেই উন্নয়ন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তাদের মতে, নিম্নমানের রাস্তা নির্মাণ মানে জনগণের টাকার অপচয় এবং ভবিষ্যতে নতুন করে সংস্কারের বোঝা জনগণের ওপর চাপানো।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুম শুরু হলে রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙে গিয়ে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করতে পারে। তারা দ্রুত কাজের মান যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ঠিকাদার তোফাজ্জল হোসেনের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা এলজিইডির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সামগ্রীর মান পরীক্ষা, প্রকল্পের ব্যয় ও কাজের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে জনস্বার্থে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।