স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক
“শরীরে এমনভাবে গুলি করা হবে, পরিবার গুণেও শেষ করতে পারবে না।”— দুর্ধর্ষ এক সন্ত্রাসীর এমন হাড়হিম করা অডিও বার্তা এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে চট্টগ্রামজুড়ে। বাংলা টিভির জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক এবং জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থকে টার্গেট করেছে বিদেশে পলাতক ছাত্রশিবিরের কিলার শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর দুর্ধর্ষ ক্যাডার মোবারক হোসেন ওরফে ইমন।
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কয়েকজন
৫০ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে গুলি করে হত্যার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
৯ই মে শনিবার বিকেলে বিদেশি একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন আসে সাংবাদিক বিপ্লবের কাছে। নিজেকে শিবিরের শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের সহযোগী পরিচয় দিয়ে ইমন সরাসরি ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শুরু হয় অকথ্য গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি।
অস্ত্রধারী শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান
হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো অডিও বার্তায় ইমন বলেন, “গুলি মানুষ চেনে না। যা করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে করতে হবে, নয়তো বোলতার বাসা বানিয়ে ফেলব।”
পুলিশের নথিপত্র অনুযায়ী, মোবারক হোসেন ইমন এক ভয়ংকর শুটার। তিনি ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরের বাসিন্দা। গত বছর (২০২৫ সাল) বাকলিয়ায় জোড়া খুন এবং পতেঙ্গায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ অন্তত ৭টি চাঞ্চল্যকর মামলার আসামি তিনি।
গোয়েন্দা তথ্য বলছে, ইমনের হাতে সবসময় অন্তত ১৫-২০টি আধুনিক অস্ত্র থাকে এবং তিনি অস্ত্র চালনায় অত্যন্ত দক্ষ। বর্তমানে কারাবন্দী ‘ছোট সাজ্জাদের’ অবর্তমানে বড় সাজ্জাদের হয়ে চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করছেন এই ইমন ও তার সহযোগী রায়হান।
চাঁদার দাবিতে এভাবে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে দাপিয়ে বেড়ায় চট্টগ্রামের সন্ত্রাসীরা
এ ঘটনায় সাংবাদিক বিপ্লব দে পার্থ নগরের কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তিনি বলেন, “প্রথমে চাঁদা চাওয়া হয়, এরপর শুরু হয় মৃত্যুর হুমকি। ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।
তবে বড় সাজ্জাদের বাহিনীর প্রায় ৫০ জন শুটার ও সহযোগীর নাগাল পেতে পুলিশ হিমশিম খাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইমন ও রায়হান দীর্ঘদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন ব্যক্তিকে হুমকি দিয়ে আসলেও এখনো তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।






