দিনাজপুরের বিরামপুরে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের বার সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে দুই পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং ইতোমধ্যে তাদের পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্য হলেন— ১. রাশেদুজ্জামান, বেতার বার্তা অপারেটর (কনস্টেবল), বিরামপুর থানা
২. সাইফুল ইসলাম, কনস্টেবল, হাকিমপুর থানা
গত ৬ মে সকালে বিরামপুরের কাটলা বাজার সংলগ্ন রামচন্দ্রপুর আদিবাসী পল্লীর সামনে জামিল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে তল্লাশির সময় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে জামিলের কাছে থাকা ৭টি স্বর্ণের বারের মধ্যে ৫টি পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়। পরে দুই পুলিশ সদস্য জামিলের পকেট থেকে উদ্ধার হওয়া আরও ২টি স্বর্ণের বার জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করে নিজেদের কাছে রেখে দেন এবং তাকে ছেড়ে দেন।
পরবর্তীতে তারা সাদা পোশাকে ঘটনাস্থলে ফিরে গিয়ে পুকুর থেকে বাকি ৫টি বারও উদ্ধার করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাটি তদন্তে নামেন।
বিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ও থানার তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নিয়েছেন। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর অভিযুক্তরা উদ্ধার হওয়া ২টি স্বর্ণের বার থানার ওসির কাছে জমা দেন।
হাকিমপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আ ন ম নিয়ামত উল্লাহ জানান, অভিযুক্ত দুই কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।