বিশেষ প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার গণেশপুর এলাকায় গড়াই নদীর ভাঙন ঠেকাতে নির্মিত সরকারি তীররক্ষা বাঁধে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। এতে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বাঁধের জিও-ব্যাগ কেটে এবং ঢাল কেটে বালু উত্তোলনের জন্য রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। এতে বাঁধের কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। আশপাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, খেলার মাঠ, হাট-বাজারসহ শত শত পরিবারের বসতভিটা এখন চরম ঝুঁকির মুখে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, ‘গড়াই নদী ড্রেজিং ও তীর সংরক্ষণ’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কুষ্টিয়া ওঅ্যান্ডএম বিভাগের তত্ত্বাবধানে গণেশপুর এলাকায় প্রায় ১.৬৩ কিলোমিটার দীর্ঘ তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়।
গত ৩ মে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে পাউবোর কর্মকর্তারা দেখতে পান, বাঁধের অ্যাপ্রন অংশে স্থাপিত জিও-ব্যাগ কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাঁধের স্লোপ কেটে বালুবাহী যান চলাচলের জন্য অস্থায়ী রাস্তা তৈরি করা হয়েছে, যা সরকারি অবকাঠামোর গুরুতর ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে চারজনকে শনাক্ত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তারা হলেন—গণেশপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম, রাজাপুর গ্রামের জুয়েল আহমেদ, আজইল গ্রামের জহির উদ্দিন এবং একই গ্রামের ইব্রাহিম হোসেন।
এ ঘটনায় কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শামসুর রহমান খোকসা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশিদুল রহমান বলেন, “নদী ভাঙন রোধে সরকারের বড় বিনিয়োগকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ব্যক্তিস্বার্থে বাঁধ কাটার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
খোকসা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।