স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত কথিত অসম বাণিজ্য চুক্তি বাতিল এবং বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে যশোরে “সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট”-এর খুলনা বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে যশোর জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এ সভায় ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা, ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যা এবং বিশ্বজুড়ে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ-সংঘাতের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। একইসঙ্গে জাতীয় স্বার্থবিরোধী সকল বৈদেশিক চুক্তি বাতিলের দাবি তুলে ধরেন বক্তারা।
জোটের নেতা ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) যশোর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফি রতন।
তিনি বলেন, দেশের জনগণকে অন্ধকারে রেখে কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি করা হলে তা কখনোই জনগণের কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। বর্তমান এই চুক্তি দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে সংকুচিত করবে এবং বিদেশি কর্পোরেট শক্তির প্রভাব বাড়াবে।
সভায় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত এই চুক্তি বাংলাদেশের স্বাধীন বাণিজ্যনীতি, কর-সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় ক্রয়নীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের চুক্তির ফলে দেশীয় শিল্প ও কৃষিখাত ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে, শ্রমিকদের মজুরি ও অধিকার সংকুচিত হতে পারে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।
বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে বহুজাতিক কর্পোরেট কোম্পানিগুলোকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ফলে দেশের উৎপাদন খাত ও স্থানীয় উদ্যোক্তারা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়বেন।
বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম বাবু বলেন, জনগণের মতামত ও সংসদের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করা সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী। আমরা এ চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশের দাবি জানাই।
বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা জনার্দন দত্ত নান্টু বলেন, এই চুক্তির ফলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণেও বিদেশি শক্তির প্রভাব বাড়বে, যা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি।
সাম্যবাদী আন্দোলনের নেতা ওবায়দুল্লাহ মুসা বলেন, দেশীয় কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে। বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়লে দেশের অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়বে।
জাতীয় গণফ্রন্টের নেতা মাকসুদ আহমেদ মনি বলেন, এই চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প, মার্কিন বাজারে অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হবে।”
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইতোমধ্যে মার্কিন কোম্পানির কাছ থেকে উচ্চমূল্যে পণ্য ক্রয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক বলে তারা উল্লেখ করেন।
খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রতিনিধিদের মধ্যেও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ যশোর জেলা কমিটির সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সদস্য তসলিম উর রহমান, সিপিবি খুলনা জেলার সভাপতি এ এস এ রশিদ, বাগেরহাট জেলার তুষার কান্তি দাস, কুষ্টিয়ার শফিউর রহমান শফি, ঝিনাইদহের নেহানউদ্দিন আহমেদ সোহেল, মাগুরার ইঞ্জিনিয়ার শম্পা বসু, যশোরের হারুন অর রশিদ, সাতক্ষীরার ইদ্রিস আলী এবং নড়াইলের সঞ্জিত রাজবংশী প্রমুখ।
তারা বলেন, জাতীয় স্বার্থবিরোধী এই চুক্তি বাতিলের দাবিতে দেশব্যাপী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। সভা থেকে দেশবাসীর প্রতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। প্রতিনিধি সভা শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল যশোর জেলা প্রেসক্লাব থেকে বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।






