স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক
আগামীকাল পালিতব্য বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশবাসীকে থ্যালাসেমিয়া বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
থ্যালাসেমিয়া একটি জটিল বংশগত রক্তরোগ, যা ব্যক্তি, পরিবার এবং সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে পিতা-মাতা উভয়েই থ্যালাসেমিয়ার জিন-বাহক হলে সন্তানের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সময়োপযোগী পরীক্ষা এবং প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এবারের বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “আর আড়াল নয়: রোগ নির্ণয়হীনদের খুঁজে বের করি, অলক্ষ্যে থাকা রোগীদের সহায়তা করি”।
দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ দিবসটি থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধ এবং আক্রান্তদের প্রতি সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় দুই কোটি মানুষ থ্যালাসেমিয়ার জিন-বাহক বলে ধারণা করা হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। সরকার ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’ নীতি বাস্তবায়নে কাজ করছে, যা থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এছাড়া নাগরিকদের স্বাস্থ্য তথ্য একীভূত করতে সরকার ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এটি চালু হলে দেশের যেকোনো স্থানে চিকিৎসা গ্রহণের সময় চিকিৎসকরা সহজেই রোগীর স্বাস্থ্য তথ্য জানতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, দুইজন থ্যালাসেমিয়া জিন-বাহকের মধ্যে বিবাহ হলে সন্তানের মধ্যে এ রোগের ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়। তাই থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে বিশেষ করে জিন-বাহকদের মধ্যে বিবাহের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি।
এ অবস্থায় পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, চিকিৎসক, গণমাধ্যম, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সকলকে সম্মিলিতভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শেষে তিনি বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।