নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ৬ মে ২০২৬: দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাবে তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিচারের দাবি তুলেছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী। সংগঠনটি এ ঘটনাকে টিকাদান কর্মসূচিতে চরম অবহেলা ও ব্যর্থতার ফল বলে অভিহিত করেছে।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও শিশুদের প্রতীকী মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ করে সংগঠনটি। বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর নেতারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে হামের টিকা সংগ্রহ ও টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যাপক অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণে এই জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি হয়েছে। তারা উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা জাহিদুল ইসলাম রিয়াদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, “এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে তিন শতাধিক শিশু হাসপাতালে রেজিস্টার্ডভাবে মৃত্যুবরণ করেছে। এই শিশু হত্যার দায়ে ড. ইউনূস ও নূরজাহান বেগমকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।” তারা আরও দাবি করেন, মৃত শিশুদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) টিকা সংগ্রহে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিভিন্ন সূত্র অনুসারে, চলতি বছরের মার্চ থেকে হামের প্রাদুর্ভাব তীব্র আকার ধারণ করে। ২৫০ থেকে তিন শতাধিকের বেশি শিশু (সন্দেহভাজনসহ) মৃত্যুবরণ করেছে এবং হাজার হাজার শিশু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বিশেষজ্ঞরা এর পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা সংগ্রহ নীতির পরিবর্তনকে দায়ী করছেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইউনিসেফ ও গাভির মাধ্যমে টিকা ক্রয় বন্ধ করে ওপেন টেন্ডার পদ্ধতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা সরবরাহে বিলম্ব ও ঘাটতি তৈরি করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর নেতারা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকার নিজেদের মুনাফা ও ব্যক্তিস্বার্থে টিকাদান কর্মসূচিকে দুর্বল করে দিয়েছে, যার ফলে শিশুরা মৃত্যুর মুখে পড়েছে। তারা এ ঘটনাকে “শিশু হত্যা” হিসেবে বর্ণনা করে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকেও এই সংকট মোকাবিলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি বিভিন্ন মহলে জোরালো হচ্ছে।






