স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক:
আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাইকারি ও খুচরা দুই পর্যায়েই মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব সোমবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এ পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। প্রস্তাব অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে দেড় টাকা পর্যন্ত এবং খুচরা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাত্রা অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হারে মূল্য নির্ধারণ করা হবে। তবে লাইফলাইন বা স্বল্প ব্যবহারকারীদের এই বাড়তি চাপের বাইরে রাখার কথা বলা হয়েছে।
সাধারণত বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো কমিশনের কাছে মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব জমা দেয়। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)সহ বিভিন্ন বিতরণ সংস্থা তাদের প্রস্তাব প্রস্তুত করছে। জানা গেছে, চলতি সপ্তাহেই এসব আবেদন বিইআরসিতে জমা পড়তে পারে। কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রস্তাব পেলে তা যাচাই-বাছাই করা হবে এবং গণশুনানির মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে জুনের শুরুতেই নতুন দর কার্যকর হতে পারে।
বিদ্যুৎ বিভাগের ভাষ্য, জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে বড় ব্যবধান এবং বাড়তি ভর্তুকির চাপ সামাল দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই প্রস্তাবটি তৈরি করা হয়েছে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মাসে ৪০০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটে প্রায় ১ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে। আর ৭৬ থেকে ৪০০ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য বাড়তি খরচ হতে পারে প্রায় ৭০ পয়সা। তবে ৭০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীরা আপাতত মূল্যবৃদ্ধির বাইরে থাকতে পারেন।
বর্তমানে দেশে প্রায় ৪ কোটি ৯৭ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৭ শতাংশ গ্রাহক সরাসরি এই মূল্যবৃদ্ধির আওতায় পড়তে পারেন, আর বাকি ৬৩ শতাংশ তুলনামূলকভাবে সুরক্ষিত থাকতে পারেন। তবে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে বিদ্যুতের দাম বাড়লে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্য ও সেবার বাজারে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড় খরচ গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা দামের তুলনায় প্রায় ৫ টাকা ৫০ পয়সা বেশি। এই ঘাটতির কারণে ভর্তুকির চাপ বাড়ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পিডিবির সম্ভাব্য ঘাটতি প্রায় ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকা হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্য অব্যাহত থাকলে অতিরিক্ত আরও প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজন হতে পারে। যদিও সরকার ইতোমধ্যে এ খাতে ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশ নির্ভর করে আমদানি করা এলএনজি, কয়লা ও তেলের ওপর। আন্তর্জাতিক বাজারে এসব জ্বালানির দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। পাশাপাশি, কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরো সক্ষমতায় উৎপাদন না করলেও চুক্তি অনুযায়ী ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা আর্থিক চাপ আরও বাড়াচ্ছে।
এর আগে সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে খুচরা পর্যায়ে গড়ে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ৫ দশমিক ০৭ শতাংশ বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটের গড় মূল্য ছিল ৮ টাকা ৯৫ পয়সা এবং পাইকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭ টাকা ৪ পয়সা।






