স্প্যানিশ কোপা দেল রের ফাইনালে গতকাল শনিবার রাতে রেয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে দুবার পিছিয়ে পড়ে দুবারই সমতায় ফিরেছিল আতলেতিকো মাদ্রিদ। কিন্তু ভাগ্য খুব বেশি সুপ্রসন্ন ছিল না দিয়েগো সিমেওনের দলের। নির্ধারিত সময়ে সমতায় থাকার পর ম্যাচ গড়িয়েছিল টাইব্রেকারে। সেখানে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছে আতলেতিকো। অন্যদিকে চতুর্থ বারের মতো কোপা দেল রের শিরোপা উদযাপনে মেতেছে ‘লা রেয়াল’ হিসেবে পরিচিত সোসিয়েদাদ। রেয়াল সোসিয়েদাদের কাছে ফাইনালে হারা আতলেতিকো এই টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে হারিয়েছিল বার্সেলোনাকে। শুধু এই টুর্নামেন্টেই নয়, গত সপ্তাহে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেও বার্সার বিদায় ঘণ্টা বাজিয়েছে সিমেওনের দল। দুর্দান্ত দাপট দেখানো দলটাই কিনা গতকাল ফাইনালে সোসিয়েদাদের কাছে পেরে উঠল না। গতকাল ম্যাচের মাত্র ১৪ সেকেন্ডেই আনদের বারেনেতশেয়ার গোলে এগিয়ে গিয়েছিল সোসিয়েদাদ। যা কোপা দেল রের ইতিহাসে দ্রুততম গোলের রেকর্ড। ১৯ মিনিটে আদেমোলা লুকমানের গোলে সমতায় ফেরে আতলেতিকো। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে মিকেল ওইয়ারসাবালের গোলে ফের লিড (২-১) পায় সোসিয়েদাদ। নির্ধারিত সময়ের ৭ মিনিট আগে আরেকদফা সমতায় ফেরে আতলেতিকো। এবার স্কোরশিটে নাম লেখান হুলিয়ান আলভারেস। নির্ধারিত সময় সমতায় শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে আতলেতিকোর হয়ে প্রথম দুটি শটেই গোল করতে ব্যর্থ হন আলেক্সান্দার সরলথ ও আলভারেস। অন্যদিকে সোসিয়েদাদও একটি শট জালে জড়াতে ব্যর্থ হয়। তাতে অবশ্য সোসিয়েদাদের শিরোপা জয় আটকে থাকেনি। অন্যদিকে হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় সিমেওনের দলকে। ম্যাচ শেষে আতলেতিকো মাদ্রিদ কোচ জানিয়েছেন, সুযোগ হাতছাড়া করার কারণেই শিরোপা জিততে পারেনি তাঁর দল। সিমেওনের ভাষায়, ‘শুরুতে গোল হজম করার পরও আমরা ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম। তবে এরপর খেলার গতি কিছুটা কমে যায়। বিরতির পর আমরা আলোচনা করি এবং খেলার গতি বাড়াই, যেমনটা দরকার ছিল। জনি (কারদোসো) বা বায়েনার সুযোগ থেকে আমরা তৃতীয় গোল করতে পারতাম। অতিরিক্ত সময়েও দুই দলের একটি করে সুযোগ ছিল— হুলিয়ানের (আলভারেস) শট পোস্টে লাগে, আর একটি শট মুসো ঠেকান। আমরা খুব ভালোভাবে লড়াই করেছি, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে টাইব্রেকারটা ওদের পক্ষেই গেছে।’ সিমেওনে যোগ করেন, ‘খেলোয়াড়রা অসাধারণ পরিশ্রম করেছে, কিন্তু ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়েছে নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই। জনি বা বায়েনার সুযোগ থেকে গোল হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আমরা যেমন বলি, ওদের (সোসিয়েদাদ) সেই কার্যকারিতা ছিল, আমাদের ছিল না।” সমর্থকদের উদ্দেশ্যে কোনো বার্তা দিতে চান কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সিমেওনে বলেছেন, ‘সমর্থকদের জন্য বার্তা দেওয়া কঠিন, কারণ তারা বার্তা নয়, জয় চায়। আমাদের কাজ হলো প্রতিদিন পরিশ্রম করে যাওয়া।’ কোপা দেল রের শিরোপা হাতছাড়া হওয়ায় আতলেতিকোর জন্য চলতি মৌসুমে একমাত্র শিরোপার পথ খোলা শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগে। ইউরোপ সেরার লড়াইয়ে ফাইনালে ওঠার পথে আর্সেনাল বাধা পেরোতে হবে সিমেওনের দলকে। আপাতত সেটি নিয়ে ভাবছেন না সিমেওনে, ‘আমি এখন আর্সেনাল নিয়ে ভাবছি না। এই হারটা আমাকে খুব কষ্ট দিয়েছে। আমরা জিততে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি। তবে যেভাবে আমরা লড়াই করেছি, সেটাই কিছুটা স্বস্তির।’







