বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি চরম বিপর্যয়ের মুখে
প্রতিবেদকের নাম :
-
আপডেটের সময় :
রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
-
৩৪
সময় দর্শন
স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি পতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হিসাব অনুযায়ী, টানা আট মাসেরও বেশি সময় ধরে এই খাতে রপ্তানি কমছে। রপ্তানির শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে ৯টিতেই নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে—যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, কানাডা, জাপান, নেদারল্যান্ডস ও ডেনমার্কে রপ্তানি কমেছে; একমাত্র ব্যতিক্রম স্পেন, যেখানে রপ্তানি প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে তৈরি পোশাক খাতে মোট রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ২৮.৫৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩০.২৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে রপ্তানি কমেছে ৫.৫১ শতাংশ। এর মধ্যে নিটওয়্যার খাতে রপ্তানি আয় হয়েছে ১৫.১১ বিলিয়ন ডলার, যা ৬.৪২ শতাংশ কম; অন্যদিকে ওভেন খাতে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ১৩.৪৭ বিলিয়ন ডলার, যা ৪.৪৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। দেশভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ৫.৭৩ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৫.৫৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা ২.৫৪ শতাংশ হ্রাস। যুক্তরাজ্যে রপ্তানি ৩.৩৫ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৩.৩০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, অর্থাৎ কমেছে ১.৬১ শতাংশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম বড় বাজার জার্মানিতে রপ্তানি ৩.৮০ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৩.২৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা ১৪ শতাংশ হ্রাস। এছাড়া ফ্রান্সে রপ্তানি ১৬৪ কোটি ডলার থেকে কমে ১৪৪ কোটিতে নেমে এসেছে (হ্রাস ১২.২৬ শতাংশ)। ইতালিতে রপ্তানি কমেছে ১০.৬১ শতাংশ; নেদারল্যান্ডসে ০.৮৫ শতাংশ; কানাডায় ০.২৬ শতাংশ; জাপানে ৭.১১ শতাংশ এবং ডেনমার্কে ১৩.৭২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট এবং পণ্য সরবরাহে দীর্ঘ সময় (লিড টাইম) লাগার কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক পরিস্থিতিও রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের মতে, হরমুজ প্রণালিতে অস্থিতিশীলতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে এবং সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে দেশে ডিজেলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যা কারখানার উৎপাদন ব্যাহত করছে এবং রপ্তানিতে প্রভাব ফেলছে। তিনি আরও বলেন, এই নেতিবাচক প্রবণতার সূচনা হয়েছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পাল্টা শুল্ক আরোপের পর থেকে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রেতাদের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা ক্রয়াদেশ কমিয়ে দেয়। পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তোলে। সব মিলিয়ে বর্তমানে ক্রয়াদেশ পরিস্থিতির তেমন উন্নতি দেখা যাচ্ছে না।
Please Share This Post in Your Social Media
এই বিভাগের আরও খবর