1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শেষ ভরসা ডিম ও কাঁচা পেঁপের দামও চড়া গত এক সপ্তাহে দেশের নদ-নদী থেকে ১৭ মরদেহ উদ্ধার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার রামিসার বড় বোনের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী বিসিবি নির্বাচন: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হতে যাচ্ছেন তামিমের খালু শিশু হত্যা-ধর্ষণের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রগতিশীল শিক্ষকদের বিবৃতি দুর্ভোগে তেরখাদার এগার-আমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দেশে ১৬ মাসে ৫২২ শিশু হত্যা, ধর্ষণের শিকার ১ হাজার ২২৩ শিশু: আসক হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু এক সপ্তাহে নদী থেকে উদ্ধার ১৭ মরদেহ ভিজিএফের বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার

দেশে ১৬ মাসে ৫২২ শিশু হত্যা, ধর্ষণের শিকার ১ হাজার ২২৩ শিশু: আসক

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
  • ২৮ সময় দর্শন
স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক

২০২৪-এর জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পর নতুন বাংলাদেশ কিংবা বাংলাদেশ ২.০ অথবা নতুন স্বাধীন বাংলাদেশ- নামক গালভরা বুলির মাধ্যমে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। রাষ্ট্রক্ষমতার পালা বদল ঘটিয়ে দাবি করা হয়েছিল, এবার বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলা হবে। এদেশে কোনো অনিয়ম, বৈষম্য, বিচারহীনতা কিছুই থাকবে না। কিন্তু এর পরের ইতিহাস কী বলে?

সাত বছরের রামিসা আক্তার পৃথিবীর কোনো দ্বন্দ্বের অংশ ছিল না। অথচ তাকেই টয়লেটে নিয়ে প্রথমে ধর্ষণ এবং পরে গলা কেটে হত্যা করেছেন পাশের ফ্ল্যাটের দম্পতি সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার (২৬)। গত ১৯<ে মে সকালে ঢাকার পল্লবী সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গত ১লা মার্চ গলাকাটা অবস্থায় দুর্গম পাহাড়ের খাদ থেকে উদ্ধার হয় আরেক শিশু। প্রতিবেশী বাবু শেখ ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শিশুটিকে হত্যার চেষ্টা করে পাহাড়ে ফেলে চলে যান। মৃত ভেবে ফেলে গেলেও শিশুটি বেঁচেছিল। কিন্তু পরদিন ২রা মার্চ রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করে সে।

আর ৩ বছরের হাবিব প্রাণ হারিয়েছে জন্মদাতার হাতেই। গত ২৭শে এপ্রিল ঢাকার বাড্ডায় স্ত্রী শিল্পী খাতুনের কাছে মাদক কেনার টাকা চেয়ে না পেয়ে তার সামনেই নিজের শিশুসন্তানকে গলা টিপে হত্যা করেন শাহিন মিয়া।

এমন ঘটনা একটি-দুটি নয়। এমন কোনো দিন নেই, যেদিন এমন নৃশংস ঘটনা ঘটছে না দেশের কোনো প্রান্তে। পত্রিকার পাতায় পাতায় এমন ঘটনা সাধারণ মানুষের অনুভূতি ভোঁতা করে দিয়েছে পুরোপুরি। রীতিমত গা সওয়া ব্যাপার এখন শিশু ধর্ষণ, বলাৎকার কিংবা শিশু হত্যার মত ঘটনাগুলো।

১৬ মাসে ৫২২ শিশু হত্যা, ১২২৩ জন নির্যাতনের শিকার

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত — এই ১৬ মাসে দেশে হত্যার শিকার হয়েছে অন্তত ৫২২ শিশু। গড়ে প্রতি মাসে ৩২ জনেরও বেশি শিশুর প্রাণ গেছে।

একই সময়ে ধর্ষণসহ চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১ হাজার ২২৩ শিশু, অর্থাৎ গড়ে প্রতি মাসে ৭৬ জনেরও বেশি।

নির্ভরতার হাত হয়ে উঠছে ঘাতক

যে মা-বাবার কোল সন্তানের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, সেই প্রিয়জনের হাতেই ঝরে যাচ্ছে শিশুর প্রাণ। গত ৯ই মে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় মাদকাসক্ত ফোরকান আলী সন্দেহের বশে নিজের তিন শিশুসন্তান — দুই বছরের ফারিয়া, আট বছরের মারিয়া ও ১৬ বছরের মিমকে — গলাকেটে হত্যা করে পালিয়ে যান।

একই ঘটনায় তিনি স্ত্রী শারমিন খানম ও শ্যালক রসুলকেও হত্যা করেন।

বগুড়ায় পৃথিবীর আলো দেখতে না দেখতেই একদিনের নবজাতককে হত্যার অভিযোগ ওঠে তার মা ও সৎবাবার বিরুদ্ধে। ৮ই মে জন্ম নেওয়া শিশুর গলাকেটে পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে ৯ই মে মা নিপা আক্তার ও সৎবাবা দুলাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মাদকাসক্তির শিকার হচ্ছে শিশুরা

মাদকের করাল থাবা কেবল একজন মানুষকে ধ্বংস করছে না — পুরো পরিবারকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিচ্ছে, আর সবচেয়ে বড় মাশুল দিচ্ছে শিশুরা।

গত ১৮ই মার্চ ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মাদকের টাকার জন্য চার বছরের মরিয়ম আক্তারের গলার রুপার চেইন ছিনিয়ে নেয় মাদকাসক্ত দুই কিশোর — ইয়াছিন মিয়া (১৬) ও আকাশ (১৫)।

ছিনতাইয়ের সময় শিশুটি তাদের চিনে ফেলায় শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ বাড়ির পাশের মাটির চুলার ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়। মরিয়ম ছিল একই গ্রামের মিজানুর রহমান ও রিমা আক্তারের একমাত্র কন্যা।

ঢাকার সাভারে মাদকের টাকা জোগাড় করতে ১২ বছরের এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যা করে একটি চক্র। গত ২৪শে এপ্রিল ফরিদপুরের বাখুন্ডা আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৭ বছরের আইরিন আক্তার কবিতাকে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যার পর সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয় মাদকাসক্ত যুবক ইসরাফিল মৃধা।

গত বছরের ১১ই সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামুতে মাদকের টাকার জন্য তিন বছরের ফাতেমাকে কুপিয়ে হত্যা করে তারই আপন চাচা নুরুল হাকিম।

বড়দের দ্বন্দ্বে প্রাণ যাচ্ছে শিশুর

বড়দের ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা ও লোভের বলি হচ্ছে নিরীহ শিশুরা। গত ৯ই মে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় অনলাইন জুয়ার টাকার দ্বন্দ্বে নয় বছরের আন্দালিব সাদমান ওরফে রাফিকে অপহরণের পর হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ভরে সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখে প্রতিবেশী নূর মুহাম্মদ খোকন।

শিশুটির বাবা জহিরুল ইসলামের সঙ্গে অনলাইন জুয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড।

একই দিন চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় প্রকাশ্যে গুলিতে একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় ১১ বছরের রেশমি আক্তার চোখে গুলিবিদ্ধ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।

অভিভাবকদের আতঙ্ক

সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। রাজধানীর মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের এক শিক্ষার্থীর মা মুনতাহিনা মুন বলেন, সাত বছরের মেয়েকে নিয়ে ভীষণ উদ্বেগে থাকেন তিনি। ফেসবুকে যা দেখছেন তা কল্পনাও করা যায় না।

মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এক শিক্ষার্থীর মা লাবনী আক্তার বলেন, মেয়েকে একা কোথাও যেতে দেন না, সবসময় সঙ্গে রাখেন। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে এখন কাউকেই বিশ্বাস করা যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃতীয় শ্রেণিপড়া এক মেয়েশিশুর বাবা বলেন, সমাজ নষ্ট হয়ে গেছে, মানুষ পশুতে রূপান্তরিত হয়েছে। এসব দেখতে দেখতে তারা নিজেরাও মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে পড়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ

সাইকোথেরাপিস্ট নুসরাত সাবরিন চৌধুরী বলেন, শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতা শুধু একটি সামাজিক অপরাধ নয়, এটি একটি গভীর মানসিক ও মানবিক সংকট, যা শিশুর নিরাপত্তাবোধ, বিশ্বাসের ভিত্তি এবং ভবিষ্যৎ মানসিক বিকাশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তিনি বলেন, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও পারিবারিক কাঠামোর পরিবর্তন, প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপন একদিকে অগ্রগতি আনলেও অন্যদিকে শিশু-কিশোরদের মানসিক ও সামাজিক নিরাপত্তায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অভিভাবকের দীর্ঘসময় অনুপস্থিতি, একক ও বিভক্ত পরিবার এবং পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধানের অভাব শিশুর নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

পাশাপাশি ডিজিটাল ডিভাইস ও ইন্টারনেটের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্টের সহজলভ্যতা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাবও এ ধরনের সহিংসতায় বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেন, দেশে শিশু সহিংসতায় দ্রুত বিচার, কঠোর শাস্তি এবং ভুক্তভোগী শিশুর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা নিশ্চিত করতে পারলে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে বাস্তব অগ্রগতি সম্ভব। পরিবার, স্কুল, কমিউনিটি এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা — সব স্তরে সমন্বিতভাবে কাজ করাও জরুরি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও সমাজ-অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, বড়দের মধ্যে দ্বন্দ্ব হলে শিশুরা প্রতিশোধের বিষয়বস্তু হয়ে উঠছে।

মাদকাসক্ত পুরুষের পরিবারে শিশুরাই হচ্ছে প্রধান শিকার। স্বজনদের হাতে শিশু নির্যাতনকে এ দেশে খুবই স্বাভাবিকভাবে দেখা হয়। হত্যার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় শিশুহত্যা দিন দিন বাড়ছে।

শিশুদের সুরক্ষায় পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, পারিবারিক সহিংসতা কমাতে বিভিন্ন সময় আইন হয়েছে, তবে শুধু আইন হলেই হবে না — আইনের প্রয়োগ দরকার।

তথ্যপ্রযুক্তির যুগে পরকীয়া বেড়েছে, মানুষের ধৈর্য কমেছে, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ ক্ষয় পেয়েছে। পারিবারিক বিরোধ মেটানোর সময় মধ্যস্থতাকারীরা সমাধানে না এসে বরং দুজনের মধ্যে আরও ইন্ধন জোগাচ্ছে — এটিও সহিংসতা বাড়াচ্ছে।

রামিসার বাবার আর্তনাদ ও পুলিশের বক্তব্য

প্রাণপ্রিয় মেয়েকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা গণমাধ্যমের সামনে ক্ষোভে বলেন, ‘আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না। এটা বড়জোর ১৫ দিন চলবে, এরপর অন্য কোনো ঘটনা ঘটলে এটা ধামাচাপা পড়ে যাবে।’

তবে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ.এইচ.এম. শাহাদাত হোসেন বলেন, শিশুদের ওপর নির্যাতনের সবগুলো ঘটনায় পুলিশ যথেষ্ট আইনগত পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং সব ঘটনাই গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

পাশাপাশি বিট পুলিশিং, উঠান বৈঠক ও কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

সমাজে পরিপূর্ণ শৃঙ্খলা ফেরাতে পরিবার, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host