1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শেষ ভরসা ডিম ও কাঁচা পেঁপের দামও চড়া গত এক সপ্তাহে দেশের নদ-নদী থেকে ১৭ মরদেহ উদ্ধার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার রামিসার বড় বোনের দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী বিসিবি নির্বাচন: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হতে যাচ্ছেন তামিমের খালু শিশু হত্যা-ধর্ষণের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রগতিশীল শিক্ষকদের বিবৃতি দুর্ভোগে তেরখাদার এগার-আমতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দেশে ১৬ মাসে ৫২২ শিশু হত্যা, ধর্ষণের শিকার ১ হাজার ২২৩ শিশু: আসক হাম ও উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু এক সপ্তাহে নদী থেকে উদ্ধার ১৭ মরদেহ ভিজিএফের বিপুল পরিমাণ সরকারি চাল জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার

রাষ্ট্রব্যবস্থার মুখে রামিসার বাবার সজোর চপেটাঘাত: বিচার চাই না, আপনারা বিচার করতে পারবেন না

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
  • ৩৯ সময় দর্শন
স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক

“আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না। আপনাদের বিচারের কোনো রেকর্ড নেই।” —এক সন্তানহারা পিতার এই তীক্ষ্ণ আর্তি আজ কাঁপিয়ে দিয়েছে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে। রাজধানীর পল্লবীতে নৃশংসভাবে খুন হওয়া শিশু রামিসা আক্তারের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা আজ গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে দাঁড়িয়ে বিচারহীনতার সংস্কৃতির এক কঙ্কালসার চিত্র তুলে ধরেন। তার কণ্ঠে বিচার চাওয়ার আকুতি নয়, বরং ছিল এক গভীর আক্ষেপ ও ঘৃণা। ১৯শে মে, মঙ্গলবার সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিল ছোট্ট রামিসা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মা যখন তাকে খুঁজতে বের হন, তখনো জানতেন না পাশের ফ্ল্যাটেই ওঁত পেতে আছে সাক্ষাৎ আজরাইল। উল্টো দিকের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে মেয়ের জুতা পড়ে থাকতে দেখে মা যখন বারবার নক করছিলেন, পিশাচ প্রতিবেশী সোহেল রানা তখন ভেতরে সচল রাখছিল তার খুনের উৎসব।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান, মাত্র দুই মাস আগে ভাড়া আসা এই প্রতিবেশী দম্পতি ঘটিয়েছেন এক আদিম বর্বরতা। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, শিশুটি বিকৃত যৌন লালসার শিকার হয়েছিল। সেই নির্যাতনের চিহ্ন ও রক্তক্ষরণ গোপন করতেই রামিসাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

এরপর আলামত গুম করতে শিশুটির দেহ থেকে মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। মূল ঘাতক সোহেল রানা যেন পালাতে পারেন, সেজন্য তার স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ রেখে খুনিকে সহায়তা করেন।

রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা আজ যখন গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন, তখন তার দুচোখে অশ্রু নয়, বরং ছিল জমাট বাঁধা ক্ষোভ। তিনি বলেন, “আপনাদের বিচারের কোনো উদাহরণ নেই। আজ এটা নিয়ে কথা হচ্ছে, বড়জোর ১৫ দিন চলবে। এরপর নতুন কোনো ঘটনা ঘটবে আর আমার মেয়ের রক্ত ঢাকা পড়ে যাবে ধামাচাপায়।”

নৃশংস এই ঘটনায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল রিপোর্টের পর ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড আবারও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা ও বিচার ব্যবস্থার ওপর।

পল্লবীর এই গলি আজ নিস্তব্ধ, কিন্তু রামিসার বাবার সেই প্রশ্ন— “আপনারা কি সত্যিই বিচার করতে পারবেন?”—তা আজ প্রতিটি মানুষের বিবেককে বিদ্ধ করছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host