সারাদেশে একের পর এক শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন ও নৃশংস হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ। ২১শে মে ২০২৬ তারিখে (স্মারক নং: BPUPTA/2026/33) জারি করা এই বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, বাংলাদেশ আজ শিশুদের জন্য এক ভয়াবহ অনিরাপদ ভূখণ্ডে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রের চরম ব্যর্থতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি শিশুদের জীবনকে প্রতিনিয়ত হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
বিবৃতিটিতে স্বাক্ষর করেছেন সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহবুব আলম প্রদীপ।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে শত শত শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় গোটা দেশ শোকাহত। বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজও এই শোকে গভীরভাবে মর্মাহত।
এত বড় বিপর্যয়ের মধ্যেও কার্যকর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকারের চরম ব্যর্থতা দৃশ্যমান বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে সাম্প্রতিক কালে ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি নৃশংস ঘটনার কথা সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারকে পাশবিক নির্যাতনের পর শিরশ্ছেদ করে হত্যা করা হয়েছে। সিলেটে চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে চার বছরের লামিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে ১০ বছর বয়সী আছিয়া আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। সিলেটের জকিগঞ্জে দীর্ঘ নয় মাস বাসায় বন্দি রেখে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে শিশু তাহসিন। আর ঢাকার বনশ্রীতে মাদ্রাসার বাথরুমে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে ১০ বছরের শিশু আব্দুল্লাহর।
এসব ঘটনা উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, এগুলো প্রমাণ করে এই রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা শিশুদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
শিক্ষক সমাজ বিবৃতিতে দৃঢ়ভাবে বলেছে, এই নৃশংসতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি গত ২০ মাসের চলমান দায়মুক্তি, মব সন্ত্রাস, সামাজিক অবক্ষয় এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পরিকল্পিত নিষ্ক্রিয়তার ফল।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তীকালীন মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের আমলে দেশে হত্যা, ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, সংখ্যালঘু নির্যাতন, মব সন্ত্রাস, সহিংসতা এবং শিক্ষাঙ্গনে মব সন্ত্রাসের যে বিস্তার ঘটেছে, তা সামাজিক সভ্যতার রন্ধ্রে রন্ধ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে এবং আইনের শাসনকে ধ্বংস করেছে।
পরিকল্পিত সন্ত্রাস, বিচারহীনতা ও প্রশাসনিক অকার্যকারিতা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ধ্বংস করেছে এবং সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে শিশুরা।
বিবৃতিতে অবিলম্বে শিশু হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীর দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কার্যকর করতে রাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে বলেও স্পষ্ট দাবি তোলা হয়েছে।
বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশকে শিশুদের জন্য নিরাপদ করতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এই ব্যর্থতার জন্য ক্ষমা করবে না।
সংগঠনটি দেশের সকল সচেতন নাগরিক, মানবাধিকার সংগঠন ও গণতান্ত্রিক শক্তিকে শিশুদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছে।






