দিনাজপুরের বিরল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইকরামুল হক-কে ছাত্রী যৌন নিপীড়নের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্তের পর স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও চাকরিচ্যুতি দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল ২০২৬) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তার স্থায়ী বহিষ্কার ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানান।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ইকরামুল হক বিদ্যালয় ও বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে ভালো ফলাফল ও বেশি নম্বর দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের শিকার করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্বেও একই ধরনের অভিযোগ উঠলেও তা যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়নি।
এছাড়া তারা জানায়, অতীতে অভিযুক্ত শিক্ষক এক ছাত্রীকে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে বিয়ে করেন এবং পরে তালাক দেন। একবার সাময়িক বরখাস্ত হলেও প্রভাব খাটিয়ে পুনর্বহাল হন। সর্বশেষ ২৯ মার্চ স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে গণপিটুনির শিকার হন তিনি। এরপর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে পুনরায় সাময়িক বরখাস্ত করে।
বিক্ষোভ শেষে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। তারা দ্রুত শিক্ষককে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কোচিংয়ে তার সম্পৃক্ততা নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপও কামনা করেন।
উল্লেখ্য, যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় গত ৩১ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করেন।