এই কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। তারা প্রতিবেদন জমা দেন রোববার। তাদের পর্যবেক্ষণের প্রেক্ষিতেই আমিনুলের বোর্ড ভেঙে দিয়ে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করে এনএসসি।
কমিটির প্রতিবেদনে যেসব পর্যবেক্ষণের কথা তুলে ধরেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক-ক্রীড়া (উপসচিব) মোহাম্মদ আমিনুল এহসান, সেগুলো হলো:
১. ক্যাটাগরি ১ থেকে অভিযোগ জেলা বা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে। অভিযোগের উৎস ছিলেন শরিফুল আলম এবং অন্যান্য সাবেক কাউন্সিলররা। অভিযোগের তারিখ ছিল ১০ মার্চ ২০২৬।
কাউন্সিলর নাম জমা দেওয়ার সময়সীমা বৃদ্ধি নিয়ে অভিযোগটি ছিল। কাউন্সিলর মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ার শেষ তারিখ শরিুতে প্রথমে নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ এবং এ বিষয়ে ১ এবং ২ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠানো হয়। পরবর্তীতে দেখা যায়, বিসিবি প্রথমে ১৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা পর্যন্ত এবং পরে ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধি করে। সার্বিক বিবেচনায় কমিটির মনে হয়েছে—এই সময়সীমা যথাযথ কারণ ছাড়াই এবং গোপন উদ্দেশ্যে বাড়ানো হয়েছিল যাতে পূর্বে মনোনীত কাউন্সিলরদের পরিবর্তন করে পছন্দসই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা যায় এবং তাদের পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করা যায়।
২. অ্যাডহক কমিটি থেকে কাউন্সিলর নাম পুনঃপ্রেরণের নির্দেশ।
বিসিবি জেলা এবং বিভাগীয় সংস্থাগুলোকে অ্যাডহক কমিটি থেকে পুনরায় কাউন্সিলরের নাম পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেয়। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বিভিন্নভাবে জেলা সংস্থার সভাপতিদের প্রভাবিত করে। এছাড়া তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টার এপিএস মিস্টার সাইফুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রভাবিত করেন যা বগুড়ার তৎকালীন জেলা প্রশাসক মিসেস হোসনে আরা আফরোজা এবং চট্টগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মিসেস ফরিদা খানমের সাক্ষ্যে নিশ্চিত হয়।
এটি স্থানীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অযৌক্তিক কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ মনে হলেও এ বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে চলমান মামলা থাকাতে কমিটি এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি।
৩. নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে মনোনয়নের জন্য চাপ।
জেলা বা বিভাগীয় সভাপতিদের ওপর সরকারি কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে, বিশেষ করে এনএসসি কর্মকর্তারা এবং সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার হস্তক্ষেপে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাউন্সিলর হিসেবে মনোনীত করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। কমিটির মতে, এটি ভোটের ফলাফল প্রভাবিত করার একটি সুসংগঠিত প্রচেষ্টা।
৪. অ্যাডহক কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন।
অধিকাংশ অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। যদিও তাদের মাধ্যমে কাউন্সিলরের নাম পাঠানো হয়। বোর্ডের সংবিধান (গঠনতন্ত্র) অনুযায়ী এসব কমিটির মেয়াদ ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করে নির্বাহী কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা ছিল।
অ্যাডহক কমিটি বিষয়ে হাইকোর্টে মামলা চলমান থাকায় কমিটি এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।
৫. চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ।
নির্ধারিত সময়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি এবং একাধিক সংস্করণ প্রকাশ করা হয়। ২৩ সেপ্টেম্ব্র ২০২৫ তারিখের ভোটার তালিকায় ৬টি জেলার ভোটার ছিল না, কিন্তু ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখের সংশোধিত তালিকায় ওই ৬টি জেলার মধ্যে ৫টি জেলার ভোটারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এটি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
৬. ক্যাটাগরি ১ এ প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে অ্যাডহক কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বিসিবির অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ।
কমিটি দেখতে পায় যে, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে চট্টগ্রাম জেলা অ্যাডহক কমিটির গঠন পরিবর্তন করে ২ জন নতুন সদস্য যোগ করা হয়। ফলে সদস্য সংখ্যা ৭ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৯ জনে দাঁড়ায়। একই দিনে চট্টগ্রাম বিভাগীয় অ্যাডহক কমিটিতেও ৪ জন নতুন সদস্য যুক্ত করা হয়। ফলে সদস্য সংখ্যা ৭ থেকে ১১ জনে উন্নীত হয়।
পরবর্তীতে ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে রংপুর বিভাগীয় অ্যাডহক কমিটি ১১ সদস্য নিয়ে অনুমোদিত হয়। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সংবিধানের প্রাসঙ্গিক বিধান অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটির সদস্য সংখ্যা ৭ জন হওয়ার কথা। অতএব কমিটির মতে, বিসিবি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে সরকার এনএসসির মাধ্যমে অ্যাডহক কমিটিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে প্রভাব খাটিয়েছে, যাতে তাদের কাউন্সিলর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যায় এবং তাদের পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দিতে পারেন।
৭. সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা মিস্টার আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার হস্তক্ষেপ।
একাধিক সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে কমিটি দেখতে পায় যে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অযৌক্তিকভাবে হস্তক্ষেপ করেছেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এবং তার এপিএস সাইফুল ইসলামের মাধ্যমে অ্যাডহক কমিটির সদস্য পরিবর্তন, তার পছন্দের প্রার্থীদের পক্ষে ভোট দিতে প্রভাবিত করেছেন। কমিটির মতে, এই হস্তক্ষেপ নির্বাচনের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করেছে।
তবে দুঃখজনকভাবে তাদের প্রকৃত অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য তারা কেউই সাক্ষাৎকারে উপস্থিত হননি এবং তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য প্রদান করেননি।
৮. ক্রীড়া উপদেষ্টার সহায়তায় ই-ভোটে নির্বাচন কারচুপি।
কমিটি দেখতে পায় যে বিসিবি সভাপতি, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা এবং তার এপিএস সাইফুল ইসলামের সহায়তায় সমন্বিতভাবে ই-ভোটিং প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও কারচুপির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কমিটি আরও লক্ষ্য করে যে, সাক্ষাৎকারে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ কাউন্সিলররা মতামত দেন যে ই-ভোটিং পদ্ধতিতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল।
৯. নির্দিষ্ট স্থান থেকে গোপনীয়তা ব্যতীত ই-ভোট প্রদান।
কমিটি দেখতে পায় যে, নির্দিষ্ট স্থান থেকে ই-ভোট প্রদান করা হয়েছে এবং এতে ভোটের গোপনীয়তা রাখা হয়নি যা মৌলিক গণতান্ত্রিক নীতি এবং বিসিবি সংবিধানের পরিপন্থী।
আবার এদের অধিকাংশ ভোটার ই-ভোটার শারীরিক ভোট গ্রহণের দিনেও ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন। সরাসরি ভোট প্রদানের সুযোগ থাকলেও রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ৫ তারিখ রাতে এক জায়গায় জড়ো হয়েই ই-ভোট দেওয়া হয় এবং এর প্রক্রিয়া কমিটির কাছে ভোট কারচুপি মনে হয়েছে।
১০. অ্যাডহক কমিটিতে আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং নাজমূল আবেদীন ফাহিমকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাদের কাউন্সিলরশিপ নিশ্চিত করতে অযৌক্তিক প্রভাব খাটানো।
কমিটি দেখতে পায় যে, ক্রীড়া উপদেষ্টা ও এনএসসি কর্মকর্তাদের সহায়তায় ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকা বিভাগ এবং ঢাকা জেলার অ্যাডহক কমিটিতে আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং নাজমূল আবেদীন ফাহিমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাতে তারা কাউন্সিলর পদ নিশ্চিত করতে পারেন এবং পরবর্তীতে বিসিবি পরিচালক পদে নির্বাচিত হতে পারেন।
এটি ক্রীড়া উপদেষ্টার পক্ষপাত এবং প্রভাবকে প্রতিফলিত করে, যারা তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের কাউন্সিলর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে এবং তাদের বিসিবি পরিচালক পদে নির্বাচিত হতে সহায়তা করেছে। এটি গুরুতর ক্ষমতার অপব্যবহার।
১১. নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ।
কমিটি দেখতে পায় যে, ২০২৫ সালের বিসিবি নির্বাচনকে বিসিবি সভাপতি, সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা ও অন্যান্য সহযোগীদের সহায়তায় নিয়ন্ত্রণ করেছেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়াটি স্বাধীন, ন্যায়সঙ্গত বা স্বচ্ছ ছিল না। ভোটাররা হুমকির মুখে পড়েছিল এবং প্রক্রিয়াগত অনিয়ম ব্যাপকভাবে ঘটেছিল।
১২. বিসিবি সংবিধানের (গঠনতন্ত্র) লঙ্ঘন।
কমিটি দেখতে পায় যে, এই তদন্তে শনাক্তকৃত কার্যক্রমগুলো বিসিবি সংবিধানের একাধিক ধারা লঙ্ঘন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ব্যালটের গোপনীয়তা, প্রার্থীদের সমান সুযোগ এবং স্বাধীন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিধান লঙ্ঘন।
১৩. ক্যাটেগরি ২, মেট্রোপলিটন ক্লাব থেকে অভিযোগ। অভিযোগ সূত্র ৫৪টি মেট্রোপলিটন ক্লাবের সভাপতি, সেক্রেটারি এবং কাউন্সিলরগণ। অভিযোগের তারিখ ৯ মার্চ ২০২৬। নির্বাচনে কারচুপি।
কমিটি দেখতে পায় যে, আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ২০২৫ সালের বিসিবি নির্বাচনকে কারচুপি করা হয়েছে, যা বিসিবি নির্বাচনের স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ণ করেছে। ক্লাব কাউন্সিলরদের বক্তব্যের ভিত্তিতে কমিটি আরও দেখেছে যে, নির্বাচনের সময় হুমকি প্রদান ও বেআইনিভাবে জবরদস্তি করা হয়েছিল।
১৪. ই-ভোটিং সিস্টেমের অপব্যবহার।
কমিটি দেখতে পায় যে কাউন্সিলরদের ই-ভোটিং সিস্টেমের মাধ্যমে ভোট দিতে প্রভাবিত করা হয়েছিল এবং তাদের হোটেল শেরাটন বনানীতে এসে ভোট দিতে উৎসাহিত করা হয়েছিল যেখানে অংশীদার হচ্ছেন বিসিবির বর্তমান সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সাখাওয়াত, যিনি ওই হোটেলের একজন স্টেকহোল্ডার।
কাউন্সিলরদের ভোট দিতে গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়নি। কমিটি আরও দেখতে পায় যে ই-ভোটিং সিস্টেমটি নির্বাচনের ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল এবং এটি গোপনীয়তা ও স্বচ্ছতার মৌলিক মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
১৫. সময়সীমার পরে ফারুক আহমেদের মনোনয়ন গ্রহণ।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের লিখিত বিবৃতি অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে চূড়ান্ত কাউন্সিলর তালিকা পেয়েছিল, যদিও নির্ধারিত সময় ছিল ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫। তবে নির্বাচন কমিশন তালিকার সময়ের পরে জমা দেওয়ার কারণ অনুসন্ধান করেনি।
বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী তার লিখিত বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, বোর্ডের অনুমোদনের পরে বিসিবি ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে কাউন্সিলর তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়েছে।
এছাড়াও এক সাক্ষাৎকারে (সাবেক বিসিবিব পরিচালক) ফাহিম সিনহা দাবি করেন যে, কিছু পরিচালক ফারুক আহমেদের মনোনয়ন ফরম গ্রহণের বিরোধিতা করেছিলেন। বারবার অনুরোধের পরেও কমিটি উক্ত সভার কোনো অডিও বা ভিডিও রেকর্ড পায়নি। এই বিপরীত বিবৃতিগুলোর প্রেক্ষিতে এবং বিসিবি কমিটির মনে করে যে, ফারুক আহমেদ একটি বেআইনি সুবিধা পেয়েছেন, যা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
১৬. পছন্দের প্রার্থীদের অনৈতিক সুবিধা প্রদান।
কমিটি দেখতে পায় যে, তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টার পছন্দের প্রার্থীদের নির্বাচনের বিভিন্ন ধাপে অনৈতিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সময়সীমার পরে মনোনয়ন গ্রহণ, ভোটার তালিকার আগাম প্রবেশাধিকার, বেআইনি প্রচারণা সহায়তা ইত্যাদি।
১৭. নির্দিষ্ট স্থানে ই-ভোটারদের ভোট প্রদানে প্রভাবিত করা।
কমিটি দেখতে পায় যে, ই-ভোটারদের নির্দিষ্ট স্থানে ভোট দিতে নির্দেশ করা সামাজিক যা ভোট প্রদানের গোপনীয়তা এবং স্বাতন্ত্র্যকে ক্ষুণ্ণ করেছে।
১৮. ভোটারদের সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ভোট দিতে বাধ্য করা।
কমিটি দেখতে পায় যে, ভোটারদের সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তাদের ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে, যা স্বাধীন ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনের মূলনীতির সরাসরি লঙ্ঘন। এই কার্যক্রম ভোটারদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে ক্ষুণ্ণ করেছে।
১৯. সামগ্রিক ভোটদান পরিবেশ।
কমিটি দেখতে পায় যে, সামগ্রিক ভোটদান পরিবেশ স্বাধীন ও ন্যায়সঙ্গত নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত ছিল না। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ছিল। ভোটাররা হুমকির মুখে পড়েছিল এবং প্রক্রিয়াগত অনিয়ম ব্যাপকভাবে ঘটেছিল।
২০. বিসিবি সংবিধানের (গঠনতন্ত্রের) লঙ্ঘন।
প্রাপ্ত কমিটি দেখতে পায় যে, এ তদন্তে শনাক্তকৃত কার্যক্রমগুলো বিসিবি সংবিধানের একাধিক ধারা লঙ্ঘন করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ব্যালটের গোপনীয়তা, প্রার্থীদের সমান সুযোগ এবং স্বাধীন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিধান লঙ্ঘন।
২১. ক্যাটেগরি ৩ থেকে অভিযোগ, প্রাক্তন ক্রিকেটার ও অন্যান্য। অভিযোগ সূত্র জনাব কাজী মোহাম্মদ ইউশা এবং অন্যান্য প্রাক্তন ক্রিকেটার বা কাউন্সিলরদের পক্ষে। অভিযোগের তারিখ ১০ মার্চ ২০২৬।
কমিটি দেখতে পায় যে, বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের ২১তম বৈঠকে ১০ জন প্রাক্তন ক্রিকেটারকে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়নের বিষয়টি নথিভুক্ত হয়েছিল এবং বোর্ডের পরিচালকরা আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে অনুমতি দিয়েছিলেন যে, তিনি নিজেই প্রাক্তন ক্রিকেটারদের মধ্য থেকে ১০ জন কাউন্সিলর মনোনয়ন করতে পারেন।
তবে অন্যান্য সাক্ষাৎকারকৃত পরিচালকরা তাদের বক্তব্যে এই দাবিটি অস্বীকার করেছেন। এ প্রসঙ্গে কমিটি বিসিবি প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরীকে বোর্ড বৈঠকের অডিও-ভিডিও রেকর্ড সরবরাহ করতে অনুরোধ করেছিল, যা এখনও প্রদান করা হয়নি। বিসিবি প্রধান নির্বাহী পরে ৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে একটি ই-মেইলের মাধ্যমে বোর্ড সভার অডিও-ভিডিও রেকর্ড সরবরাহের জন্য ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ সময় চেয়েছিলেন, যা কমিটি অযৌক্তিক এবং অসহযোগী মনে করেছে। তাই কমিটি বিশ্বাস করে যে, কমিটিকে অডিও-ভিডিও রেকর্ড সরবরাহ করতে ইচ্ছুক নয় বিসিবি। সুতরাং বোর্ড অনুমোদন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে উত্থাপিত আপত্তি যথাযথ ভিত্তিসম্পন্ন।
২২. বিসিবি সভাপতি হিসেবে আমিনুল ইসলাম বুলবুল কি তার ক্ষমতার বাইরে কাজ করেছিলেন?
আমিনুল ইসলাম বুলবুল, নিজাম উদ্দিন চৌধুরী এবং অন্য পরিচালকরা বিসিবি বোর্ডের সিদ্ধান্ত সম্পর্কিত বিবৃতিতে সাংঘর্ষিক তথ্য প্রদান করেছেন। এছাড়াও কমিটি উক্ত বৈঠকের কোনো ভিডিও বা অডিও রেকর্ড পায়নি, যদিও বিসিবি কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছিল। অতএব অন্যান্য সাক্ষাৎকারকৃত পরিচালকদের বিবৃতির ভিত্তিতে কমিটি অনুমান করেছে যে, আমিনুল ইসলাম বুলবুল প্রাক্তন ক্রিকেটারদের মধ্যে ১০ জন কাউন্সিলর মনোনয়নের জন্য যথাযথভাবে অনুমোদিত ছিলেন না।
এছাড়াও বিসিবি সংবিধানের আর্টিকেল ৯.৩.৩ অনুযায়ী সভাপতি এককভাবে ১০ জন প্রাক্তন ক্রিকেটারকে কাউন্সিলর মনোনয়নের ক্ষমতা রাখেন না। সুতরাং বিসিবি সভাপতি হিসেবে আমিনুল ইসলাম বুলবুল একপক্ষীয়ভাবে ১০ জন প্রাক্তন ক্রিকেটারকে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়ন করে তার ক্ষমতার বাইরে কাজ করেছেন। এটি সুস্পষ্ট ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিসিবি সংবিধানের লঙ্ঘন।
কমিটি দেখতে পেয়েছে যে, আমিনুল ইসলাম বুলবুলের একপক্ষীয়ভাবে ১০ জন প্রাক্তন ক্রিকেটার মনোনয়ন করা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে, কারণ তিনি ওই কাউন্সিলরদের কাছ থেকে সুবিধা লাভ করেছেন এবং সম্ভাব্যভাবে নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছেন।
২৩. প্রণালীগত অনুসন্ধান, সংবিধানগত অপ্রতুলতা। বিসিবি সংবিধানের অপ্রতুলতা প্রাপ্তি।
কমিটি দেখতে পেয়েছে যে, বিসিবি সংবিধান মৌলিকভাবে যথেষ্ট নয় যাতে স্বাধীন, ন্যায্য এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়। সংবিধানের কাঠামোগত দুর্বলতা এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি করেছে যেখানে শনাক্তকৃত অনিয়মগুলো ঘটতে সুযোগ পেয়েছে।
২৪. বিসিবি নির্বাচন নিয়মের অসম্পূর্ণতা প্রাপ্তি।
কমিটি দেখতে পেয়েছে যে, বিসিবি নির্বাচন নিয়ম ২০২৫ অসম্পূর্ণ এবং অপর্যাপ্ত। ই-ভোটিং, স্বাধীন তত্ত্বাবধান এবং গোপন ব্যালট গোপনীয়তার জন্য কোনো ধারা না থাকায় দুর্বলতা সৃষ্টি হয়েছে যা অপব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে।
এই ছিল কমিটির দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ।
এই কমিটি কিছু সংস্কার সুপারিশও করেছে। সুপারিশগুলো এমন:
১. বিসিবি সংবিধান (গঠনতন্ত্র) সংস্কার।
নির্বাহী এবং নির্বাচনী কার্যাবলী স্পষ্টভাবে পৃথক করা উচিত, যাতে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ও স্বার্থের সংঘাত এড়ানো যায়। একটি স্বাধীন গভর্ন্যান্স ও এথিকস কমিটি গঠন করা প্রয়োজন, যা নীতিমালা অনুসরণ, নৈতিকতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। সভাপতি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে স্বেচ্ছাচারিতা, অনুমোদনহীন কার্যক্রম এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা যায়। অনিয়ম, দুর্নীতি ও নির্বাচনী কারসাজির রিপোর্ট করার জন্য একটি কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন করতে হবে।
২. বিসিবি নির্বাচন বিধিমালা সংস্কার।
মনোনয়ন, যাচাই-বাছাই, প্রচারণা, ভোটগ্রহণ, গণনা এবং নির্বাচন পরবর্তী নিষ্পত্তিসহ নির্বাচন প্রক্রিয়ার সকল ধাপ অন্তর্ভুক্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে। ই-ভোটিং ব্যবস্থার নিরাপত্তা, গোপনীয়তা, অখণ্ডতা এবং নিরীক্ষাযোগ্যতা নিশ্চিত করার জন্য সুনির্দিষ্ট বিধান প্রণয়ন করা জরুরি। প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং যাচাইযোগ্য পদ্ধতি প্রবর্তন করে সেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা রাখতে হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত আপত্তি, অভিযোগ ও বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি কার্যকর, নির্দিষ্ট সময়সীমাবদ্ধ এবং স্বচ্ছ বিরোধ নিষ্পত্তি কাঠামো গঠন করতে হবে।
৩. নির্বাচন কমিশন কাঠামো সংস্কার।
সংবিধানে নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ সংশোধন, স্পষ্টীকরণ বা বিস্তারিতভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া সুসংগঠিত ও কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়। একটি স্থায়ী ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন করা উচিত, যেখানে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বা উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কমপক্ষে ৬০ দিন পূর্বে ভোটার তালিকা প্রকাশ এবং অন্তত ৩০ দিনের আপত্তি ও সংশোধনের সময়সীমা নির্ধারণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। সকল ই-ভোটিং ব্যবস্থার জন্য নির্বাচন পূর্বে স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের নিরাপত্তা নিরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিত।
কমিটির পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশগুলো তুলে ধরার পর আমিনুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার আইনি ভিত্তি তুলে ধরেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক।
“২০১৮ সালের জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইনের ধারা ২১ এ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে অ্যাডহক কমিটি নিয়োগ বা ইত্যাদির। আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন, চুক্তি বা আইনি দলিলে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, পরিষদ জাতীয় ক্রীড়া সংস্থা বা তফসিলে উল্লেখিত ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী কমিটি উহা যে নামেই অভিহিত হোক না কেন, যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করিতেছে না বা সংস্থার স্বার্থের পরিপন্থী কার্যক্রম পরিচালনা করিতেছে মর্মে পরিষদের নিকট প্রতীয়মান হইলে উক্ত নির্বাহী কমিটি ভাঙিয়া দিতে পারিবে এবং প্রয়োজনে একটি অ্যাডহক কমিটি নিয়োগ করিতে পারিবে।”
“জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠিত কমিটির রিপোর্ট পর্যালোচনা করে এই অবস্থানে উন্নীত হয়েছে যে, বর্তমান বিসিবি কমিটি গঠনে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণের দুর্বলতা ছিল, অনিয়ম ছিল। সেই প্রেক্ষিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ইতিমধ্যেই বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ সংস্থা আইসিসির কাছে একটি ই-মেইল পাঠিয়েছে। সেই ই-মেইলে এই কমিটিকে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। একই সাথে একটি ১১ সদস্য বিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটি গঠনের কথাও জানানো হয়েছে।”
এই অ্যাডহক কমিটি ৩ মাসের মধ্যে নির্বাচিত কমিটি উপহার দিতে বাধ্য থাকবে বলে জানানো হয়। এই সময়ে ক্রিকেটের স্বাভাবিক কার্যক্রমগুলো পরিচালনার জন্য এই অ্যাডহক কমিটি নির্বাচিত কমিটির মতোই ক্ষমতাপ্রাপ্ত থাকবে।