স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক
ঢাকা: বাংলাদেশ সরকার আবারও ব্যাংক থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মাত্র দুই মাসের মাথায় এই অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের অপরিমিত বিলাসী ও রাজসিক ব্যয়ের দায় মেটানোর ফল। সরকারি সূত্র ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৮ এপ্রিল ৯১ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের বিশেষ নিলামের মাধ্যমে এই ৫ হাজার কোটি টাকা তোলা হবে। এটি চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২৬) ব্যাংক থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণের অংশ, যা বাজেট লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
ইউনুস আমলে অতিরিক্ত ব্যয় ও ঋণ
ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার মাত্র ১৮ মাসে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা) বৈদেশিক ঋণ ব্যবহার করেছে। পাশাপাশি দেশীয় ব্যাংক থেকে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে ব্যয় নির্বাহ করেছে। সরকারের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, ইউনুস সরকার বছরে অতিরিক্ত ২৮ হাজার কোটি টাকা অযাচিত খরচ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে:
- অপরিকল্পিত বিলাসী ব্যয়
- অযাচিত বিদেশ ভ্রমণ
- রাজস্ব আয় ব্যবস্থার ভেঙে পড়া
ইউনুস সরকারের অব্যাবস্থাপনায় রাজস্ব আদায়ে ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। প্রতি মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। ফলে সাধারণ ব্যয় মেটাতেও ব্যাংক ও বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে অন্তর্বর্তী সরকার।
বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই এই ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ইউনুস আমলের অতিরিক্ত ঋণ ও বিলাসী ব্যয়ের বোঝা এখন নতুন সরকারের ওপর চেপে বসেছে। এই ধারাবাহিক ব্যাংক ঋণের ফলে:বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমে যাচ্ছে (ক্রাউডিং আউট ইফেক্ট)
- সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে
- মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসেই ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ প্রায় পুরো বাজেট লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, ইউনুস সরকারের অব্যবস্থাপনা ও বিলাসী ব্যয়ের দায় এখন জনগণের ওপর বোঝা হয়ে চেপে বসছে। রাজস্ব আয় বাড়ানো এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো ছাড়া এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হবে।
এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে সামনে আরও চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনুস সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার দায় এখন নতুন সরকারকে মেটাতে হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলছে।






