ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির রাজাকার শিরোমনি গোলাম আযমের ছবি সম্বলিত পোস্টারকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ৬ই এপ্রিল, সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট ওয়াশরুম এবং কলা ঝুপড়ির দেয়ালে এসব পোস্টার দেখা যায়, যেখানে রাজাকার গোলাম আযমের ছবির ওপর জুতার চিহ্ন এঁকে নিচে লেখা হয়েছে— ‘আমাকে জুতা মারুন’
হঠাৎ ক্যাম্পাসের জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় এমন পোস্টার দেখে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে উদ্দীপনা জাগলেও স্বাধীনতাবিরোধী চেতনার গুপ্ত-প্রকাশ্য বিভিন্ন দলের কর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতের খুনে-দোসর ছাত্রসংঘ (বর্তমানে ছাত্রশিবির) এর নেতাকর্মীরা তাদের নেতার এমন পোস্টার দেখে হতভম্ব।
২০২৪ এর জুলাই-আগস্টের দাঙ্গা সহিংসতার পর পুরো দেশের মত চবি ক্যাম্পাসও যখন জামায়াত-শিবিরের কব্জায়, ঠিক তখন কে/কারা এমন পোস্টার টাঙালো- এ নিয়ে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা।
এই ঘটনাকে তাই পরিকল্পিত ‘উসকানি’ দাবি করছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, “যারা এ কাজ করেছে তারা চাচ্ছে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হোক। তারা আমাদের কাছ থেকে প্রতিক্রিয়াশীল আচরণ প্রত্যাশা করছে। আমরা ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছি, তবে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে তাদের বিরত থাকা উচিত।”
অন্যদিকে, চাকসুর এজিএস ও ছাত্রদল নেতা আইয়ুবুর রহমান তৌফিক এই বিষয়টিকে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।
তিনি বলেন, “গোলাম আজম বাংলাদেশের ইতিহাসের একজন ঘৃণিত ব্যক্তি। মুক্তিযুদ্ধের সময়কার কৃতকর্মের কারণে অনেকেরই তার ওপর ক্ষোভ রয়েছে। সেই ক্ষোভ থেকেই কেউ এটি করেছে। আমি এটাকে বড় কোনো অপরাধ হিসেবে দেখছি না।”
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রাজাকার শিরোমনি গোলাম আযমকে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ৯০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করে। সাজাভোগরত অবস্থায় ২০১৪ সালে তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়।
এ ঘটনা কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎপর বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতপন্থী প্রশাসন।
প্রক্টর ও জামায়াতপন্থী শিক্ষক হোসেন শহীদ সহরাওয়ার্দী বলেন, “কিছু দুষ্কৃতকারী এসব পোস্টার টাঙিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। আমরা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সর্বোচ্চ সক্রিয় আছি। ছাত্রসংগঠনগুলোকে বলব, কোনো প্ররোচনায় পা না দিয়ে সম্প্রীতি বজায় রাখুন।”






