বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য বৈদ্যুতিক গাড়ির (ই-কার) ব্যবস্থা করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (রুয়া)। গত বছরের ২৬ অক্টোবর পরীক্ষামূলকভাবে এ সেবা চালু করা হয়। শুরুতে ৫টি গাড়ি উদ্বোধন করা হয় এবং পর্যায়ক্রমে এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধির কথা জানানো হয়। তবে শুরুর কয়েকদিনের মধ্যেই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দুটি গাড়ি বন্ধ হয়ে গেলে তিনটি চলছিল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চালকরা গাড়ির কোম্পানিকে দৈনিক ১ হাজার ৫০০ টাকা প্রদান করার পর গাড়ি পান। এরপর সারাদিন ক্যাম্পাসে গাড়ি চালিয়ে যা ইনকাম হয় সেটা তাদের মজুরি হিসেবে থাকে। শুরুর দিকে শিক্ষার্থীরা আগ্রহ নিয়ে চড়লেও ধীরে ধীরে এ সংখ্যা কমে যায়। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাড়া সংক্রান্ত একটি জটিলতা তৈরি হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়। সেখানে ক্যাম্পাসে কয়েকটি স্টপেজ নির্ধারণ করা হয় এবং সে অনুযায়ী ভাড়া প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়।
রাকসুর বর্তমান জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার তার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ৫ টাকা ভাড়া পরিবহন সেবার ঘোষণা দেন। ফলে চালক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি বিভ্রান্তি তৈরি হয়। একপর্যায়ে গাড়ির চালকরা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে ভাড়া বৃদ্ধি বা স্টপেজ প্রতি ভাড়া নিশ্চিতের বিষয়ে আলোচনা করলে সেটিও শেষ পর্যন্ত হয়নি।
এ বিষয়ে রাবির ই-কার সেবার ম্যানেজার এনায়েত কবির লিখন বলেন, আমরা বেশ কয়েকবার রুয়ার সঙ্গে আলোচনা করেছি কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। আর এই পরিবহন সেবার কোম্পানিও অধিক মুনাফার জন্য ক্যাম্পাসে গাড়ি দিতে আগ্রহী না। এ পরিস্থিতি বেশ কয়েকদিন চলমান থাকায় শেষ পর্যন্ত সেবাটি বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, কোম্পানি থেকে গত রমজানের ছুটির মধ্যে প্রতিনিধি এসেছিল ক্যাম্পাসে। তারা ক্যাম্পাসে ই-কার রাখতে চাচ্ছে না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বিক্রি করার প্রস্তাব দিয়ে গেছে। আর এর মধ্যেই তারা তিনটি গাড়ি নিয়ে চলে গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও আরবি বিভাগের অধ্যাপক নিজাম উদ্দিন বলেন, ই-কারগুলোর বিভিন্ন টেকনিক্যাল সমস্যা হওয়ায় এ জটিলতা তৈরি হয়েছে। প্রথমে পরিকল্পনা ছিল ক্যাম্পাসের ভাঙ্গা রাস্তাগুলো বাদ দিয়ে চলবে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের চাপের কারণে সব রাস্তায়ই চলাচল শুরু করে। এক সময় কয়েকটা নষ্ট হয়ে যায়। এগুলো ঠিক করার জন্য টেকনিশিয়ান রাজশাহীতে নেই।
তিনি আরও বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী ৪ তারিখের মধ্যে নতুন করে গাড়ি কিনে ক্যাম্পাসে ফ্রি চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রস্তাব দেব। যদি তারা এতে একমত হয়, তাহলে কয়েকদিনের মধ্যেই নতুন করে আবার এ পরিবহন সেবা চালু হবে।






