স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক
জ্বালানী তেল আমদানি ও সরবরাহে সরকারের অব্যাবস্থাপনায় সৃষ্ট জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে সেচ মৌসুমে ডিজেলের অভাবে জমিতে পানি দেওয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষকদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় এই সংকট এতটাই তীব্র হয়েছে যে, সেচের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল সংগ্রহ করতে এখন গৃহিণীরাও ফিলিং স্টেশনের লাইনে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয় সন্তোষপুর এলাকার অংগন ফিলিং স্টেশনসহ উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে পুরুষ ও নারীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। পুরুষরা যদি সারাদিন তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন, তাহলে জমির কাজ বন্ধ হয়ে যায় এবং পরিবারের আয়-রোজগারে বড় ধরনের ক্ষতি হয়। এই সমস্যা এড়াতে অনেক পরিবারে নারীরা স্বেচ্ছায় এ দায়িত্ব নিয়েছেন। রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তাঁরা ডিজেল সংগ্রহ করছেন, যাতে সেচ পাম্প চালিয়ে জমিতে পানি দেওয়া যায় এবং কৃষি কাজ সচল রাখা যায়।
স্থানীয় গৃহিণী শম্পা খাতুন, নার্গিস আক্তার ও ডলি মন্ডলসহ অনেকেই জানিয়েছেন, অসুস্থ স্বামী বা পরিবারের অন্য সদস্যদের কথা বিবেচনা করে তাঁরা এই কষ্ট স্বীকার করছেন। ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আব্দুল হান্নান জানান, ডিজেলের সংকট পেট্রলের তুলনায় অনেক বেশি। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতি পাঁচজন পুরুষের পর একজন নারীকে তেল দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশে বোরো ধানের উৎপাদনের একটি বড় অংশ ডিজেলচালিত সেচ পাম্পের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমান সেচ মৌসুমে ফসলের বৃদ্ধি ও ফুল আসার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে তেলের অভাবে অনেক জমি শুকিয়ে যাচ্ছে। চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক জেলায় একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। কৃষকরা বলছেন, পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় সেচ দিতে না পারলে এবারের ফসলের উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে, যা খাদ্য নিরাপত্তায়ও প্রভাব ফেলবে।
এই সংকটের পাশাপাশি সার কারখানায় গ্যাস সংকট, পণ্য পরিবহন ব্যাহত এবং সামগ্রিক কৃষি ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হলেও, মাঠ পর্যায়ে তা এখনো পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
জ্বালানি সংকটের এই চিত্র শুধু চুয়াডাঙ্গা নয়, দেশের বিভিন্ন কৃষিপ্রধান এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। কৃষক ও তাঁদের পরিবারের এই কষ্ট দেখিয়ে দিচ্ছে যে, জ্বালানি তেলের সংকট কেবল শহরের সমস্যা নয় — এটি সরাসরি দেশের খাদ্য উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে নাস্তানাবুদ করছে। আগামী দিনগুলোতে সরকারকে এই সংকট দ্রুত মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, অন্যথায় কৃষি খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।






