1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সেচের জ্বালানি তেল সংগ্রহে লাইনে দাঁড়িয়েছেন গৃহিণীরা জ্বালানি সংকটের কারণে চরম ভোগান্তিতে কৃষক বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া ৫২ হাজার কোটি বেড়েছে দাখিল পরীক্ষার্থী রাষ্ট্রের ক্ষতি ৮৫৫ মিলিয়ন ডলার: কাতারের সাথে শেখ হাসিনা সরকারের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি সত্ত্বেও পিটার হাস থেকে উচ্চমূল্যে এলএনজি ক্রয় তেরখাদায় চিত্রা নদীতে গোসলে নেমে তলিয়ে মৃত্যু, একদিন পর মরদেহ উদ্ধার জামালপুরে ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে ইয়াবা ও হেরোইনসহ ৭ জন গ্রেফতার এক দফা দাম বাড়ানোর পর ভোক্তাপর্যায়ে আবারও এলপিজির দাম বাড়িয়েছে সরকার চবিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার পোস্টার হাতে অবস্থান বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি চরম বিপর্যয়ের মুখে

হুমকির মুখে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা: জ্বালানির অভাবে বিদ্যুৎ এবং সেচ বন্ধ, বন্ধ হয়ে গেছে সারের উৎপাদন, দেশের সার কারখানাগুলো অচল ও স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে!

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৫ সময় দর্শন

স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক

সূর্য ওঠার আগেই কৃষকেরা নেমে পড়েন জমিতে। উদয়াস্ত পরিশ্রম করে খাদ্যশস্য ফলান। তাদের এই হাড়ভাঙা খাটুনির পেছনে যেসব মৌলিক উপাদান প্রয়োজন—পানি, বীজ, শ্রম ও সার; এর যেকোনো একটির ছন্দপতন পুরো কৃষি ব্যবস্থাকেই ব্যহত করতে সক্ষম। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গত ২০২৪-এর আগস্টের রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর থেকে হোঁচট খেতে খেতে এখন খাদের কিনারায়। রাষ্ট্র পরিচালনায় অব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সার-সেচসহ কৃষ্টি সংশ্লিষ্ট প্রতিটি খাতে নেমে এসেছে বিপর্যয়। যার ফলশ্রুতিতে ক্রমাগত উৎপাদনের গ্রাফ নিম্নমুখী। জ্বালানির অভাবে বিদ্যুৎ এবং সেচ বন্ধ, বন্ধ হয়ে গেছে সারের উৎপাদন, দেশের সার কারখানাগুলো অচল ও স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

এই বাস্তবতায় যখন কোনো সার কারখানার চিমনি থেকে ধোঁয়া ওঠা বন্ধ হয়ে যায়, তখন তা কেবল একটি শিল্পকারখানার উৎপাদন বন্ধ হওয়া নয়—বরং একটি গভীর কৃষি সংকটের সূচনা। শহরের চোখে এটি হয়তো একটি সাধারণ শিল্পখাতের ঘটনা, কিন্তু গ্রামের কৃষকের কাছে এটি সরাসরি অনিশ্চয়তার বার্তা। কারণ তিনি জানেন, এর অর্থ সময়মতো সার না পাওয়ার ঝুঁকি।

আর সময়মতো সার না পাওয়া মানেই ফসলের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে ওঠা। বাংলাদেশের আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে উৎপাদন বাড়াতে উচ্চফলনশীল বীজ ও রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা অনিবার্য। এসব ফসল মাটির কাছ থেকে বেশি পুষ্টি দাবি করে, যার বড় অংশই আসে সারের মাধ্যমে।

ফলে সারের সরবরাহে সামান্য বিঘ্নও কেবল একটি মৌসুম নয়, পুরো কৃষি চক্রকে প্রভাবিত করে। একটি নির্দিষ্ট সময়ে ইউরিয়া বা অন্যান্য সার প্রয়োগ না হলে ফসলের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, ফলন কমে যায়, এমনকি সম্পূর্ণ ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।

কৃষকের বাস্তবতা এই সংকটকে আরও নির্মম করে তোলে। তিনি ঋণ নিয়ে বীজ কিনেন, জমি প্রস্তুত করেন, শ্রমিক নিয়োগ দেন—প্রতিটি ধাপে বিনিয়োগ বাড়তে থাকে। কিন্তু সেই বিনিয়োগের ভিত্তি—সারের নিশ্চয়তা—যদি ভেঙে পড়ে, তাহলে তার সমস্ত পরিকল্পনা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। তখন তার সামনে ভেসে ওঠে শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, এক গভীর অসহায়তা।

যে মঙ্গাকে ঠেলে জাদুঘরে পাঠানো হয়েছিল, এখন সেই মঙ্গার পুনরুত্থানের শব্দ শুনতে পাচ্ছেন কৃষক। শহুরে মানুষেরা হয়ত উপলব্ধি করতে পারেননি এখনো। আর মঙ্গা জাদুঘরে যাওয়ার পরের কয়েকটি প্রজন্ম জানেই না এর ভয়ঙ্কর রুদ্র রূপ কেমন হতে পারে।

ফলে কৃষি খাতের এই সামগ্রিক সংকট ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত পর্যায় ছাড়িয়ে জাতীয় উদ্বেগে রূপ নিচ্ছে ক্রমশ। কারণ বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার বড় অংশই কৃষিনির্ভর। উৎপাদন কমে গেলে বাজারে তার প্রভাব দ্রুত দৃশ্যমান হয়—চাল, ডাল, সবজি সবকিছুর দাম বাড়তে থাকে। এর সবচেয়ে বড় চাপ পড়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর, যারা বাধ্য হয়ে তাদের খাদ্যতালিকা থেকে পুষ্টিকর উপাদান কমিয়ে দেয়।

এর পাশাপাশি তৈরি হয় আরেকটি কাঠামোগত ঝুঁকি—আমদানিনির্ভরতা। দেশীয় সার উৎপাদন ব্যাহত হলে আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ও সরবরাহ সবসময় স্থিতিশীল থাকে না। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়ে এবং সামগ্রিক অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে পড়ে।

সংকটের একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু কম আলোচিত দিক হলো কৃষকের মানসিক অবস্থা। প্রতিটি মৌসুমে তিনি নতুন আশায় বীজ বোনেন, কিন্তু অনিশ্চয়তার পুনরাবৃত্তি তার আত্মবিশ্বাসকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। একসময় কৃষি পেশার প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদনের ভিত্তিকেই দুর্বল করে তুলবে।

এই প্রভাব শুধু কৃষকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। গ্রামীণ অর্থনীতি মূলত কৃষিকে ঘিরেই আবর্তিত। কৃষকের আয় কমে গেলে স্থানীয় বাজার, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং দিনমজুরদের জীবিকায় সরাসরি প্রভাব পড়ে। অর্থাৎ একটি সার কারখানা বন্ধ হওয়ার অভিঘাত ধীরে ধীরে পুরো সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে ছড়িয়ে পড়ে।

এই প্রেক্ষাপটে একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে—কৃষি ও সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতকে আমরা কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি? দেশের অনেক সার কারখানা এখনো পুরোনো প্রযুক্তিনির্ভর, রক্ষণাবেক্ষণে ঘাটতি রয়েছে এবং জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চিত। ফলে সামান্য চাপেই উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এটি কেবল প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা নয়, বরং নীতিগত দুর্বলতার প্রতিফলন।

তবে আশার জায়গা একেবারে নেই তা নয়। সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব। সার কারখানার আধুনিকায়ন, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কার্যকর বণ্টন ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি জৈব সার ও পরিবেশবান্ধব কৃষির মতো বিকল্প পদ্ধতির দিকেও ধীরে ধীরে অগ্রসর হওয়া যেতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। কৃষিকে কেবল অর্থনৈতিক খাত হিসেবে নয়, জাতীয় অস্তিত্বের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। একটি দেশের প্রকৃত শক্তি তার মাটির উর্বরতা এবং কৃষকের শ্রমের ওপর নির্ভর করে।

সার কারখানার চিমনি থেকে ধোঁয়া ওঠা তাই শুধু উৎপাদনের প্রতীক নয়—এটি খাদ্য নিরাপত্তার নিশ্চয়তার প্রতিচ্ছবি। আর যখন সেই ধোঁয়া থেমে যায়, তখন তা একটি সতর্কবার্তা দেয়—আমরা কোথাও না কোথাও পিছিয়ে পড়ছি।

এই বার্তাকে গুরুত্ব দিয়ে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া গেলে পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে। কারণ কৃষি দুর্বল হলে উন্নয়নের ভিত্তিও একসময় নড়বড়ে হয়ে যায়। তাই যে কোনো মূল্যে সার কারখানাগুলো সচল রাখা এখন সময়ের দাবি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host