পেনশন পুনঃস্থাপন এবং মাসিক পেনশন চালুর দাবিতে গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছে। কারো-কারো অভিযোগ, চাকরির বয়স শেষ হওয়ার আগেই অনেককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় গ্রামীণ ব্যাংক।

মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুর-২ এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘গ্রামীণ ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ’ এর ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করেন সাবেক কর্মীরা।
ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করে দারিদ্র বিমোচনের চেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংক ও মুহাম্মদ ইউনূসকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।
১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দীর্ঘ ২৮ বছর গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ছিলেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অধ্যাপক ইউনূসকে অবসরের বয়স পেরিয়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে আদালতে গিয়েও তিনি আর সেই পদে ফিরতে পারেননি।
গত ১৫ বছরে গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মসূচি এবং ইউনূসকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত বছরের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে তিনি দেশত্যাগ করলে সেই ইউনূসের নেতৃত্বেই অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা বলছেন, ২০০৪ ও ২০১৬ সালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য জারি করা প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়ন করছে না প্রতিষ্ঠানটি।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া একাধিক সাবেক কর্মী বলেছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরেই গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছেন। ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকেও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়ন শুরু করার জন্য।
প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে বলা হয়, অবিলম্বে দাবি বাস্তবায়ন না হলে সামনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যাংকটির কয়েকশ’ কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন।
শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য চিকিৎসা ও উৎসব ভাতা দেওয়া এবং অবসরের ১৫ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর পেনশন পুনঃস্থাপন এবং মাসিক পেনশন চালু করার দাবিও জানানো হয়েছে কর্মসূচি থেকে।
‘গ্রামীণ ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ’ এর সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম বলেছেন, কর্মসূচি আরো দুইদিন চলবে। বৃহস্পতিবার কর্মসূচির শেষ দিন।
মানববন্ধন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্বরত দেখা যায়। কোনো গোলযোগের খবর পাওয়া যায়নি।