স্বপ্ন প্রতিদিন রিপোর্ট
‘জন্মিলে মরিতে হবে অমর কে কোথা কবে’ অমোঘ এই নির্মম সত্যটাকে মেনে নিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে। আজ ১২ এপ্রিল ২০২৬ এর দুপুরে মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
এক নজরে ফিরে দেখা
আশা ভোঁসলে। বয়স তাঁর কাছে সংখ্যা ছাড়া কিছুই ছিলনা। বোন লতা মুঙ্গেশকরের মতো তিনিও ছিলেন হিন্দি গানের জগতে কিংবদন্তি। কন্ঠ দিয়েছেন অসংখ্য বাংলা গানেও। এই ৯৩ বছর বয়সেও চিরতরুণ কন্ঠের অধিকারী ছিলেন প্রখ্যাত শিল্পী আশা ভোঁসলে। জন্ম ১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর। মূলত তিনি হিন্দি সিনেমার নেপথ্য সংগীতশিল্পী হিসেবে বিখ্যাত।
১৯৪৩ সাল থেকে তিনি ষাট বছরেরও বেশি সময় ধরে গান গেয়ে চলেছেন। তিনি তাঁর সংগীত জীবনে মোট ৯৫০টিরও বেশি সিনেমায় বারো হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন বলে জানা যায়।
২০১১ সালে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তাঁকে সর্বাধিক সংখ্যক গান রেকর্ডকারী হিসেবে ঘোষণা করে।
ভারত সরকার কর্তৃক তিনি ২০০৮ সালে পদ্মভূষণ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।
বিখ্যাত সংগীত পরিচালক এবং সুরকার রাহুল দেব বর্মন ছিলেন তাঁর দ্বিতীয় স্বামী। তাঁদের সংসারে তিন সন্তান রয়েছে। তার মধ্যে ২য় সন্তান বর্ষা ভোঁসলে ৮ অক্টোবর ২০১২ সালে লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র মাথায় ঠেকিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে জানা যায়।
তাঁর গায়িকা জীবনকে খতিয়ে দেখলে চারটি সিনেমাকে চিহ্নিত করা যায় যা তাঁর ক্যারিয়ারের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত। ছবিগুলো হলো – ‘নয়া দৌড়’, ‘তিসরি মঞ্জিল’ ‘উমরাও জান’ এবং ‘রঙ্গিলা’।
আশা ভোঁসলে বাংলা সিনেমার জন্যও বহু ছবিতে নেপথ্য কন্ঠদান করেছেন। এছাড়া তিনি বাংলা আধুনিক গান এবং রবীন্দ্রসংগীতও গেয়েছেন অনেক। জনপ্রিয় এসব গান গেয়ে পেয়েছেন অসংখ্য পুরুষ্কার।
১৯৭৭ সাল পর্যন্ত আশা ভোঁসলে সাতবার ফিল্মফেয়ার সেরা নেপথ্য গায়িকার পুরস্কার পেয়েছেন।
২০০১ সালে তিনি ফিল্মফেয়ার আজীবন সম্মাননা পুরস্কার পান।
তাঁর জন্মদিনকে ঘিরে ভক্তরা উৎসবে মাতলেও আশা এই দিনটি নিজের মতো করেই কাটাতেন।
তাঁর প্রয়াণে উপমহাদেশের সংগীত জগতে এক স্বর্ণযুগের অবসান ঘটলো সন্দেহ নেই। অন্তিম শ্রদ্ধা।