উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, বাজারে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রভাবসহ নানা বাধায় সংকট চলছে পোল্ট্রি খাতে। সঙ্গে বেড়েছে রোগ বালাই ও বাচ্চা মৃত্যুর হার। প্রান্তিক খামারিরা বলছেন, সুরক্ষা না দিলে হুমকিতে পড়বে গ্রামীণ অর্থনীতি। এমন পরিস্থিতিতে আসছে বাজেটে পোল্ট্রি শিল্পে কর অব্যাহতির দাবি তাদের। সস্তা আমিষ হিসেবে জনপ্রিয় ডিম ও ব্রয়লার মুরগি। দেশে পোল্ট্রি শিল্পে বিনিয়োগ ছাড়িয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি। এ খাতে জড়িত প্রায় ৬০ লাখ মানুষ। কিন্তু করের বোঝা ও উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় পুরো শিল্পই ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
খামারিদের অভিযোগ, এ খাতে করপোরেট কর ১৫ থেকে বাড়িয়ে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধিসহ সব ধরনের শুল্ক বেড়েছে। এতে পোল্ট্রি খাদ্যসহ উপকরণের দাম বেড়েছে। প্রতিটি ডিম উৎপাদনে খরচ সাড়ে ১০ টাকার ওপরে হলেও, বিক্রি করতে হচ্ছে সাড়ে ৮ টাকায়। বাজারে মুরগির বাচ্চার দামও নিয়ন্ত্রণ করছে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো। সব মিলিয়ে ছোট খামারিদের টিকে থাকাই কঠিন। এক খামারি বলেন, ‘মুরগির বাচ্চা নিতেছি এক হাজার, টিকতেছে ৫০০। মুরগি মারা যাওয়ার কারণে আমাদের প্রডাকশন কস্ট প্রায় এক কেজি মুরগির ওপর ২৮০ থেকে ৩০০টাকা প্রায় খরচ পড়ে যাচ্ছে।’ আরেক খামারি বলেন, ‘খাদ্যের খরচটা প্রায় ৬০টাকা কেজি পড়ে যাচ্ছে। এটাতে আমাদের মুরগির উৎপাদন খরচটা বেশি পড়ে যাচ্ছে।’
উদ্যোক্তারা বলছেন, করের বোঝা না কমলে ডিম ও মুরগির সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট সৃষ্টি হতে পারে। প্রান্তিক খামারিরা টিকতে না পারলে সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। তাই বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ ও কর অব্যাহতি সুবিধা রাখা জরুরি।
পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, ‘সরকার এরইমধ্যে কৃষক কার্ডের যে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে, সেই কার্ডে পোল্ট্রি, মৎস এবং লাইভস্টোক খামারীদের যাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের অন্তর্ভুক্তি করণ এবং তাদের বিষয়ে যাতে সুন্দর পলিসি বা ফলপ্রস্যু পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সে জন্য আমরা নতুন সরকারকে আহ্বান করব।’






