কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে একটি দরবার শরিফে হামলা চালিয়ে পীর শামীম রেজা জাহাঙ্গীরকে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
এক বিবৃতিতে দলটি বলেছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
দলটি এই ধরনের ‘মব’ সহিংসতাকে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং অভিযোগ করেছে, বিএনপি সরকার এ ধরনের সহিংসতা ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে।
১২ই এপ্রিল, শনিবার রাতে দেওয়া এনসিপির বিবৃতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল সমালোচনার পাশাপাশি ট্রল এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নেটিজেনরা।
কেউ কেউ লিখেছেন, ২০২৪-এর জুলাই-আগস্টের সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশে মব সহিংসতা এবং হত্যা-ধ্বংসলীলার যে সূচনা করেছে এনসিপির নেতাকর্মীরা মিলে, কোনো ঘটনারই সুষ্ঠু তদন্ত-বিচার কিছুই হয়নি। উল্টো মব হামলাকারীদের প্রশ্রয়-মদত দিয়েছে, ধরা পড়লে ছাড়িয়ে নিয়েছে যারা, তারাই এখন মব নিয়ে কথা বলছে।
অনেকেই বলছেন, ইউনূস সরকারের সময় এনসিপি, জামায়াত-শিবির ও বিএনপির মব সন্ত্রাসের যদি সুষ্ঠু বিচার হতো, তবে আজ এসব ঘটনা ঘটাতে সাহস পেত না মব সন্ত্রাসীরা।
এদিকে, বিবৃতিতে এনসিপি জানায়, ধর্ম অবমাননার মতো সংবেদনশীল অভিযোগের তদন্ত ও বিচার করার দায়িত্ব আদালতের। কিন্তু যারা মব তৈরি করে অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তারা আইনত গুরুতর অপরাধ করেছে।
পুলিশের উপস্থিতিতেই কুষ্টিয়ায় উগ্রবাদী-তৌহিদি হামলায় পীর নিহত: আস্তানায় ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ-লুটপাট
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত হামলার উস্কানিদাতা, পরিকল্পনাকারী এবং অংশগ্রহণকারীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, স্থানীয় ক্ষমতার সমর্থন ছাড়া এ ধরনের মব সহিংসতা সম্ভব নয়। গত বছর রাজবাড়ীতে মাজার ভাঙচুর ও লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাতেও রাজনৈতিক প্রভাব ছিল বলে দাবি করা হয়।
শনিবার সকালে নিহত পীরের দরবার শরিফে উগ্রবাদীরা হামলা করে। পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ সতর্কতা নেয়নি বলেও বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়।
এনসিপির দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার ‘মব কালচার’ বন্ধের কথা বললেও বাস্তবে তা দমন করা যাচ্ছে না। জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) সরকার-সমর্থিত মবের মাধ্যমে কর্মরত দুজনকে পদত্যাগে বাধ্য করার ঘটনাও তুলে ধরা হয়।
তাদের মতে, একদিকে সরকার ‘মব কালচার’ বন্ধের কথা বলছে, অন্যদিকে সরকার-সমর্থিত গোষ্ঠীকে প্রশ্রয় দিচ্ছে এবং ভিন্নমত দমনে এই ধারণাকে ব্যবহার করছে।
শেষে এনসিপি জানায়, সরকার ধারাবাহিকভাবে তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। তাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুখপাত্রের ভূমিকায় না থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।






