রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম তৌহিদ আল হোসেন তুহিনের কারাবন্দী অবস্থায় বিনা চিকিৎসায় পায়ে পচন ধরেছে। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, ‘মিথ্যা’ মামলায় তাঁকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে এবং যথাযথ চিকিৎসার অভাবে ছাত্রশিবিরের হামলায় পাওয়া তাঁর পুরোনো ক্ষতের অবস্থা এখন অত্যন্ত সংকটাপন্ন। অমানবিক এই পরিস্থিতির পরও আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং প্রাপ্ত কয়েকটি ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তৌহিদ তুহিনের ডান পায়ের গোড়ালির ওপরে মারাত্মক সংক্রমণ ও পচন (গ্যাংগ্রিন) দেখা দিয়েছে। ছবিতে স্পষ্ট দৃশ্যমান যে, কারাবন্দী অবস্থায় হাতকড়া ও বেড়ি পরা তুহিনের পায়ের ক্ষতের জায়গাটি গর্ত হয়ে কালো হয়ে গেছে এবং আশপাশের পেশি ও টিস্যুগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে উন্নত চিকিৎসাসেবা না পেলে তাঁর পা কেটে ফেলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বা সংক্রমণ পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে।
জানা যায়, ২০১৩ সালের ২২ আগস্ট রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তৌহিদ আল হোসেন তুহিনের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছিল ইসলামী ছাত্রশিবিরের ক্যাডাররা। সে সময় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাঁর ডান হাত ও ডান পায়ের গোড়ালির পেছনের রগ কেটে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ চিকিৎসার পর তিনি সে সময় পঙ্গুত্বের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে প্রাণে বেঁচে ফিরলেও সেই ক্ষত তাঁকে আজীবন বয়ে বেড়াতে হচ্ছে।
পরিবার ও তাঁর আইনজীবীদের দাবি, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর জুলাই আন্দোলনের একটি বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক মামলায় তুহিনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। কারাভ্যন্তরে স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে তাঁর পায়ের ওই পুরোনো ক্ষতস্থানে নতুন করে মারাত্মক সংক্রমণ দেখা দেয়। কারাকর্তৃপক্ষ তাঁকে উপযুক্ত চিকিৎসাসেবা প্রদান করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে ধীরে ধীরে সেখানে পচন ধরেছে।
তৌহিদ তুহিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মানবিক ও স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তাঁর আইনজীবীরা সম্প্রতি আদালতে জামিন আবেদন করেন। কিন্তু আদালত তাঁর শারীরিক অবস্থাকে আমলে না নিয়ে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন।
তাঁর পরিবার ও মানবাধিকারকর্মীরা অবিলম্বে তুহিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামিন প্রদান বা বিশেষ ব্যবস্থায় দ্রুত কোনো বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তরের জোর দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা বলছেন, কারাগারে এভাবে বিনা চিকিৎসায় একজন বন্দীর শরীরে পচন ধরার বিষয়টি চরম অমানবিক ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সুষ্ঠু চিকিৎসা না পেলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকেরাও।