ব্যাট হাতে এবারের আইপিএলে ভৈভাব সুরিয়াভানশি যা করছেন, সেটা ব্যাখ্যা করতে অভিধানে হয়তো নতুন বিশেষণই যোগ করতে হবে! অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত কিংবা অসাধারণ- এসব দিয়ে সুরিয়াভানশিকে পুরোপুরি বোঝানো সম্ভব হচ্ছে না! একের পর এক ম্যাচে তাণ্ডব চালিয়ে নিজেকেই যেন ছাড়িয়ে যাচ্ছেন ১৫ বছরের ‘বিস্ময়-বালক।’
চেন্নাইয়ের বিপক্ষে ১৭ বলে ৫২, গুজরাটের বিপক্ষে ১৮ বলে ৩১, আর মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ১৪ বলে ৩৯ রানের ইনিংসের পর গতকাল শুক্রবার আইপিএল আবারও সুরিয়াভানশি শো দেখা গেছে। এবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে মাত্র ২৬ বলে ৮ চার ও ৭ ছক্কায় ৭৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন সুরিয়াভানশি। সেই সঙ্গে ধ্রুব জুরেলের ৪৩ বলে ৮ চার ও ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৮১ রানের ঝড়ে বেঙ্গালুরুর দেওয়া ২০২ রানের লক্ষ্য ইনিংসের ১২ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই ছুঁয়ে ফেলেছে রাজস্থান রয়্যালস। তাতে এবারের আইপিএলে প্রথম চার ম্যাচের চারটিতেই জিতল রাজস্থান।
গতকাল ৭৮ রানের ইনিংস খেলার পথে মাত্র ১৫ বলেই ফিফটি পূর্ণ করেন সুরিয়াভানশি। আইপিএল ইতিহাসে যৌথভাবে তৃতীয় দ্রুততম ফিফটি এটি। অবশ্য শুধু গতকালই নয়, চেন্নাইয়ের বিপক্ষে রাজস্থানের প্রথম ম্যাচেও ১৫ বলে ফিফটি ছুঁয়েছিলেন সুরিয়াভানশি। এবারের আইপিএলে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে গতকাল ২০০ রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন ১৫ বছরের এ বাঁহাতি ওপেনার। গতকালের ৭৮ রানসহ ৪ ইনিংসে সুরিয়াভানশির নামের পাশে ঠিক ২০০ রান। আর স্ট্রাইকরেট? চোখ কাপলে তোলার মতো- ২৬৬.৬৬! যেন ক্রিকেট নয়, সুরিয়াভানশি ভিডিও গেম খেলছেন।
সুরিয়াভানশির অবিশ্বাস্য ব্যাটিং প্রদর্শনী সমর্থকদেরই নয়, বিস্ময় উপহার দিচ্ছে সতীর্থদেরও। গতকাল ম্যাচ শেষে ধ্রুভ জুরেলের কথাতেও উঠে এল সেটি, ‘সত্যি বলতে, ওকে (সুরিয়াভানশি) ব্যাটিং করতে দেখার পরও বোঝা যায় না, কীভাবে ও এমন শট খেলে। সত্যিই অবাক হয়ে যেতে হয়— কীভাবে কেউ এভাবে মারতে পারে! মনে হয়, আমরা তো একই পিচেই ব্যাটিং করছি, তাহলে আমাদের কাছে এমন সহজ লাগে না কেন? সত্যিই ও অসাধারণ প্রতিভা।’
তা ব্যাটিংয়ের সময় সুরিয়াভানশিকে কিছু বলতে হয় কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে ধ্রুব জুরেল বলেছেন, ‘সবচেয়ে ভালো হচ্ছে, ওকে কিছু না বলা। ওকে ওর মতো করেই খেলতে দেওয়া উচিত। আর ও আমাদের দলে আছে— এটা ভাবতেই ভালো লাগে।’
আর যাকে নিয়ে এত হইচই, সেই সুরিয়াভানশি জানালেন, মাঠে তেমন বিশেষ কিছু করতে হয় না তাঁর। ম্যাচ শেষে রাজস্থানের বাঁহাতি এ ওপেনার বলেছেন, ‘অনুশীলনে যা করি, আমি শুধু চেষ্টা করি ম্যাচেও সেটাই করতে। অতিরিক্ত কিছু করতে যাই না, নিজের স্বাভাবিক খেলাটাকেই ভরসা করি।’
আগের ম্যাচে বুমরাকে তিন বলের মধ্যে দুবার ছক্কা হাঁকিয়েছেন, গতকাল ঝড় তুলেছেন হ্যাজলউডের বলে। এমন বিশ্বমানের বোলারদের ভয় না পাওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে সুরিয়াভানশি বলেছেন, ‘কে বোলিং করছে, সেটা অবশ্যই মাথায় থাকে। কিন্তু আমি চেষ্টা করি বলটা খেলতে। বোলারদের দিকে না তাকিয়ে শুধু বলের ওপর নজর রাখতে… আর নিজের খেলাটা খেলতে।’





