মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে আসার পূর্বাভাস দিয়েছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটির মতে, চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশ হতে পারে। আর ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তা বেড়ে হতে পারে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতি প্রসঙ্গে এসব কথা বলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। গত ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে টানা তিন বছর প্রবৃদ্ধির গতি নিম্নমুখী। মূলত সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া, বন্যায় কৃষি খাতে ফসলের ক্ষতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় এটি হয়েছে।
তবে চলতি অর্থবছর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে কিছুটা উন্নতি ঘটবে বলে আশা করছে এডিবি। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি আরও কিছুটা বেড়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছর ভোগব্যয় ও বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটতে পারে। জাতীয় নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে আসার ফলে এটি সম্ভব হবে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত সরবরাহ শৃঙ্খলের সমস্যা গত প্রান্তিকে অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে প্রভাবিত করেছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী না হলে এর প্রভাব ধীরে ধীরে কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমার পাশাপাশি দেশের মূল্যস্ফীতি বেড়ে আরও নাজুক অবস্থান যেতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের কাছাকাছি উচ্চ অবস্থানে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহজনিত সমস্যা। তবে আগামী অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৫ শতাংশে নামতে পারে।






