চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাবাসী ক্ষুব্ধ, বেড়েছে লোডশেডিং
প্রতিবেদকের নাম :
-
আপডেটের সময় :
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
-
৪৩
সময় দর্শন
স্বপ্ন প্রতিদিন ডেস্ক
চাঁপাইনবাবগঞ্জে তীব্র গরমের সঙ্গে বেড়েছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। এতে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে জেলার বাসিন্দাদের। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, চাহিদার তুলনায় জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম পাওয়ায় বাধ্য হয়ে তাদেরকে লোডশেডিংয়ে যেতে হচ্ছে। এর সঙ্গে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পর্ক নেই। জেলা বিদ্যুৎ অফিস সূত্র জানায়, জেলায় বিদ্যুতের গ্রাহক পাঁচ লাখেরও বেশি। এর মধ্যে নেসকোর গ্রাহক দেড় লক্ষাধিক। আর পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক প্রায় তিন লাখ ৬০ হাজার। মধ্য এপ্রিলে জেলায় নেসকো ও পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা থাকে সর্বোচ্চ ১৬৫ মেগাওয়াট। ফলে জেলায় এই দুই প্রতিষ্ঠান কখনো কখনো চাহিদার তুলনায় গড়ে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং করছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ নেসকো-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাইমিনুর রহমান জানান, বর্তমানে তার এলাকায় ৩২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৭ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ঢাকার ন্যাশনাল লোড ডেসপাচ সেন্টার (এনএলডিসি) মূলত লোড ম্যানেজমেন্ট করে। সারা দেশের উৎপাদন, সঞ্চালন, সরবরাহ এখান থেকেই নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করা হয়।’ নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, যে পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যায়, তা গ্রাহকদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পেলে বিভিন্ন ফিডারে বিভিন্ন মেয়াদে লোডশেডিং করা হয়। সাধারণত আধাঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সর্বোচ্চ চেষ্টা করে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহের। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পিক আওয়ারে বেশি লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানান এই কর্মকর্তা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ নেসকো-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সাদিকুল ইসলাম বলেন, সব সময়ই যে লোডশেডিং হচ্ছে, বিষয়টি এমন নয়। কখনো কখনো দীর্ঘক্ষণ সরবরাহ থাকে। তবে গত কয়েক দিনে ধীরে ধীরে লোডশেডিং বেড়েছে। কম সরবরাহ পাওয়ার পর ফেজভিত্তিক বন্টনের কারণে লোডশেডিং হয়। কিন্তু ঢাকা থেকে সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হলে সেটিকে লোডশেডিং বলা যায় না। নেসকো, শিবগঞ্জের আবাসিক প্রকৌশলী জুলফিকার আলী বলেন, সম্প্রতি একদিন তারা সর্বোচ্চ চাহিদা সাড়ে ৭ মেগাওয়াটের তুলনায় অর্ধেক সরবরাহ পেয়েছেন। গত ১৫ এপ্রিলও শিবগঞ্জবাসী দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ছিলেন। নেসকো গোমস্তাপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়ালিদ হাসান বলেন, অনেক সময় মেইনটেন্যান্স (রক্ষণাবেক্ষণ)-এর কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়। আবার আবহাওয়ার কারণেও বন্ধ রাখতে হয়। অনেক সময় বৃষ্টি হলে বা ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা কমে যায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম হাওলাদার ফজলুর রহমান বলেন, এখন গড়ে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হয়েছে। হাসপাতাল বা সরকারি জরুরি স্থাপনায় লোডশেডিং কম করা হয়। তিনি বলেন, মাঠের ধান উঠেগেলে লোডশেডিং কমে আসবে।
Please Share This Post in Your Social Media
এই বিভাগের আরও খবর