বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিবির নেতা ও জামায়াত নেতা শিশির মনিরের রুমমেট মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া-কে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। গতরাতে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি হয় বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে তার প্রত্যাহারের খবরে জেলাজুড়ে স্বস্তির প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের বিবরণ তুলে ধরছেন। কোথাও কোথাও আনন্দ প্রকাশ করে মিষ্টি বিতরণের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। রাতে শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে বিক্ষুব্ধ জনতা মিষ্টি বিতরণ করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দুই বছরে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্ব করেছেন। বিশেষ করে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিল। হাওরের বাঁধ নির্মাণের কমিটি গঠনে জেলা ও উপজেলায় জামায়াতকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বিশেষ করে জামায়াত নেতা শিশির মনিরের তদবিরে তার উপজেলায় সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দিয়ে তার লোকজনকে পিআইসি উপহার দিয়েছেন। এছাড়াও জুলাই যোদ্ধা, শিবির ক্যাডার ও শিবিরের সাংবাদিকদের পিআইসিতে সদস্য, পিআইসি উপহারসহ সরকারি নানা সুবিধা দিয়েছেন।
বিএনপি তার বিরুদ্ধে জামায়াতকে পৃষ্টপোষকতার অভিযোগ করে। গত জাতীয় নির্বাচনের আগে দুইজন বিএনপি এমপি প্রার্থী ইসিতে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু শিশির মনিরের কারণে তার বদলি হয়নি।
ভুক্তভোগীরা জানান, তিনি প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে প্রকাশ্যে বাধা দিয়েছেন।
সর্বশেষ গত ১৪ই এপ্রিল সুনামগঞ্জে উদীচী-র অনুষ্ঠানের অনুমতি দেননি তিনি। এ নিয়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সমালোচনা হয় তার বিরুদ্ধে। তবে উদীচীকে কর্মসূচি করতে না দেওয়ায় জামায়াতের সংস্কৃতিকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে ডিসিকে অভিনন্দন জানিয়েছিল।
অভিযোগ আছে শিবিরের সাবেক ক্যাডার মাছুম হেলাল, শহিদনূর আহমদ, রাজাকারপুত্র দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী ডিসি মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়াকে প্রভাবিত করতেন। শহিদ নূর ও মাছুম হেলায় ডিসির মাধ্যমে হাওরের বাঁধের প্রায় ২ কোটি টাকার কাজ নিয়েছেন। দেওয়ান গিয়াসকে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের পার্ক টোকেন মানিতে ইজারা দিয়েছেন ডিসি ইলিয়াস।
এভাবে পছন্দের দলীয় লোকদের নানাভাবে পুনর্বাসন করেছেন তিনি। এ ঘটনায় জাসাস ডিসির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করেছিল।
স্থানীয়রা জানান, একজন জেলা প্রশাসকের কাছে নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থে কাজ করার প্রত্যাশা থাকে। কিন্তু ইলিয়াস মিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল।
তবে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযোগগুলোর প্রেক্ষিতেই তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।






