বাংলাদেশ মুসলিম রাষ্ট্র। এখানে আনুমানিক ৯০% মানুষ মুসলমান। ইসলাম প্রচারকালে এ দেশে ৩৬০ জন মতান্তরে আরও বেশী আউলিয়া আগমন করেন। তাঁরা দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থায়ী আস্তানা গেড়ে ধর্ম প্রচার করতে থাকেন। তাদের মৃত্যু হলে বিভিন্ন জায়গায় কবর দেয়া হয়। আউলিয়াদের কবর মাজার হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। তেমনি সিলেটের বিখ্যাত অলি হযরত শাহ জালাল (রঃ) এর সফর সঙ্গী ও তাঁর ভাগিনা হযরত শাহ্ কামাল ইয়ামিনী (রঃ) জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ নামক স্থানে আস্তানা গেড়ে ধর্ম প্রচার করেন। একসময় তিনি মৃত্যুবরণও করেন। সেখানেই তাঁর মাজার প্রতিষ্ঠিত হয়। অনেক অনেক বছর আগে থেকেই ধর্মপ্রাণ মুসলমান ভাই ও বোনেরা সেখানে জিয়ারত করতে যান। অনেকেই আবার মনোবাসনা পুরণের আশায় মানত করেন। তবে প্রতি বছর পুরো বৈশাখ মাস এ মাজার কেন্দ্রীক বার্ষিক ওরস অনুষ্ঠিত হয়। এ ওরসকে কেন্দ্র করে মেলাও বসে। বিশেষ করে এ ওরসে তরিকাপন্থী পাগল পাগলীরা এসে আস্তানা গাড়ে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আশেকান, জাকেরান, মুরিদান ও ভক্তবৃন্দসহ নানা পেশাজীবি মানুষ এসে ভিড় জমান। মেলায় নানান রকমের খাবারের দোকান, কসমেটিকসহ বিভিন্ন রকমারি পণ্যের দোকান বসে। এছাড়াও সার্কাস, মোটরসাইকেল শো, যাদুসহ নাচ-গানের ব্যবস্থাও রয়েছে। মাজার ও মাজার কেন্দ্রিক মসজিদের একটি কমিটি রয়েছে। ওরস কেন্দ্রিক মেলার জন্যও পৃথক আরেকটি কমিটি রয়েছে। এ কমিটিদ্বয় ওরস ও মেলা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ সার্বিক পরিস্থিতি সামলানোর জন্য দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এখানে পুরো বৈশাখ মাসই মানুষের বাড়তি আনাগোনায় প্রচন্ড ভিড় থাকে। বাড়তি ভিড়ে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা মুসকিল হয়ে পড়ে। অনেক ভক্ত মাজার জিয়ারত করতে এসে সিজদাহ্ দিয়ে বসেন। আবার পাগলা পাগলিদের আস্তানায় মাদকের সয়লাভ। এখানে বিভিন্ন স্থান থেকে উঠতি বয়সী যুবক, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র সহ বিভিন্ন বয়সের লোকজন মাদকের নেশায় আসক্ত হচ্ছে। তাই মাজার ও মসজিদ কমিটি, মেলা কমিটি, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ সচেতন মহলের উচিত মাজারের পবিত্রতা এবং মাদকমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখার জন্য সুব্যবস্থা গ্রহণ করা।