নাহ, পেরে উঠল না ইতালি। ঠেকাতে পারল না আরেকটা স্বপ্নভঙ্গের রাত! যে রাতে বিশ্বকাপের মঞ্চে এক যুগ না খেলার আক্ষেপ ঘোচানোর নিঃশ্বাস দূরত্বে ছিল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু সেই দূরত্বটা আর পাড়ি দিতে পারেনি জেনারো গাত্তুসোর শিষ্যরা। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে প্লে-অফের ফাইনালে গতকাল মঙ্গলবার রাতে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে ৪-১ ব্যবধানে হেরেছে ইতালি। তাতে নিশ্চিত হয়, টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ খেলা হচ্ছে না চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
এমন ট্র্যাজেডির রাতে ইতালির নামের পাশে যোগ হয়েছে আরও একটা অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড। ইতালিই প্রথম সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল, যারা টানা তিনটি বিশ্বকাপ মিস করছে। আর ইতালির বর্তমান দলের কারোরই বিশ্বকাপ খেলার কোনো অভিজ্ঞতা থাকল না।
এটা যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না ইতালির ফুটবলাররা। গতকাল ম্যাচ শেষে তেমনটাই বললেন দলটির ডিফেন্ডার লিওনার্দো স্পিনাজ্জোলা, ‘এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না, আমরা ছিটকে গেছি। সেটাও এমনভাবে। এটা আমাদের, আমাদের পরিবার এবং সেই সব শিশুদের জন্য ভীষণ কষ্টের, যারা ইতালিকে কখনো বিশ্বকাপে খেলতে দেখেনি।’
তার মানে এই নয় যে, ম্যাচে ইতালি ভালো খেলেনি। ম্যাচের ১৫ মিনিটেই ময়েস কিনের গোলে এগিয়ে যায় আজ্জুরিরা। ম্যাচে তখন একচ্ছত্র দাপট গাত্তুসোর দলের। কিন্তু ৪১ মিনিটে আলেসান্দ্রো বাস্তোনির লাল কার্ড বদলে দেয় ম্যাচের গতিপথ।
প্রায় নিশ্চিত গোল হজমের হাত থেকে দলকে রক্ষা করতে বসনিয়া মিডফিল্ডার আমার মেমিচিকে ট্যাকল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বাস্তোনি। ইতালি ১০ জনের দল হয়ে পড়লে পেয়ে বসে বসনিয়া। দুই প্রান্ত ধরে একের পর এক ক্রস করতে থাকে দলটি। টানা আক্রমণের ফলে ৭৯ মিনিটে সমতাসূচক গোলের দেখাও পেয়ে যায় বসনিয়া। এতে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে আর কোনো গোল না হলে ম্যাচ যায় টাইব্রেকারে।
পেনাল্টি শুটআউটে ইতালির হয়ে প্রথম ও তৃতীয় শটটি মিস করেন এসপোসিতো ও ক্রিস্তানতে। অন্যদিকে চারটি শট নেওয়া বসনিয়া চারটিই জালে জড়ায়। তাতে ইতালির আর শেষ দুটো পেনাল্টি শট নেওয়ার দরকার পড়েনি।
বিলিনো পোলহে স্টেডিয়ামে তখন দুটি ভিন্ন আবহ। একদিকে এক যুগ পর বিশ্বকাপে যাওয়ার আনন্দে বাঁধনহারা বসনিয়া। অন্যদিকে টানা তিন তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা না পেয়ে হতাশার সাগরে বিলীন হওয়া ইতালি।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, দুটি দলই এর আগে শেষবার বিশ্বকাপ খেলেছে ২০১৪ সালে। মাত্র ৩৫ লাখ জনসংখ্যার দেশ বসনিয়ার জন্য ওটাই ছিল বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলার অভিজ্ঞতাও।






