স্বপ্ন প্রতিদিন রিপোর্ট
লক্ষ্মীপুর পৌর শহরে ১৪৪ ধারা জারি থাকা অবস্থায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রদল-সমর্থিত নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) অন্তত ১০ জন আহত হন বৈছা আন্দোলনকারীদের হামলায়। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। রবিবার (৫ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের চকবাজার মসজিদের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। একই সময় ছাত্রদল-সমর্থিত ‘জুলাই ফাইটার্স’ ব্যানারে পাল্টা মিছিল বের হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে ত্রিমুখী সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিক্ষুব্ধদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং চকবাজারসহ আশপাশের এলাকায় দোকানপাট দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এসময় পুলিশের উপর হামলা করে বৈছা নেতাকর্মীরা। তবে বৈছা আন্দোলনে গুপ্ত শিবিরের নেতাকর্মীরাই ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
জানা গেছে, শনিবার রাতে শহরের হাসপাতাল রোড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী হাবিবুর রহমান ফাহিম ও জেলা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক আকবর হোসেন মুন্নার মধ্যে কথা কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে রবিবার বিকাল ৫টায় চকবাজার মসজিদের সামনে থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রতিবাদ মিছিলের ঘোষণা দেয়। একই সময়ে ছাত্রদল-সমর্থিত জুলাই ফাইটার্স সেখানে সমাবেশের ঘোষণা দিলে সংঘর্ষের আশঙ্কায় প্রশাসন বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা এ নির্দেশনা দেন। সংঘর্ষে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সদর মডেল থানার ওসি মো. ওয়াহিদ পারভেজ আহত হন। এছাড়া উভয় পক্ষের অন্তত নয় জন আহত হন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা অরূপ পাল জানান, ওসি ওয়াহিদ পারভেজের হাতের আঙুলে আঘাত লাগে এবং তার এক্স-রে করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী জানান, দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির কারণে ১৪৪ ধারা জারি করা হয় এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে। সংঘর্ষে ওসিসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আটক দুজনকে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।






