সর্বশেষ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের যাত্রা থেমেছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। ওই ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে হেক্সা মিশন থেমে যায় সেলেসাওদের। সেই স্বপ্নভঙ্গের প্রায় সাড়ে তিন বছর পর আবারও ক্রোয়াটদের মুখোমুখি হয়েছিল পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
তবে এবার আর ক্রোয়েশিয়াকে সুযোগ দেয়নি ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্পিং ওয়ার্ল্ড স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ক্রোয়াটদের ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল।
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শুধু বদলা নয়, এই ম্যাচ দিয়ে জয়ের ধারাতেও ফিরল ব্রাজিল। নভেম্বরের প্রীতি ম্যাচে তিউনিশিয়ার সঙ্গে ড্র করার পর চার দিন আগে ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে হেরেছিল ব্রাজিল। সেই দিক বিবেচনায় আজকের জয়টা নিশ্চিতভাবেই স্বস্তি দেবে কার্লো আনচেলত্তির দলকে।
তবে স্কোরলাইনে দুই গোলের ব্যবধান থাকলেও জয়টা সহজ ছিল না ব্রাজিলের জন্য। ম্যাচে বল দখলে এগিয়ে ছিল ক্রোয়েশিয়াই (৫৫%)। এমনকি আক্রমণেও ছিল দুদল প্রায় সমানে সমান। তবে গোলমুখে শটে ক্রোয়েশিয়ার (৩) চেয়ে এগিয়ে ছিল ব্রাজিল (৭)। ব্রাজিল প্রথম গোলটা পেয়েছে দারুণ এক প্রতিআক্রমণে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে কর্নার পেয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। সেই কর্নারে নিজেদের বক্সের বাইরে থেকে বল ক্লিয়ার করে ভিনিসিয়ুসের দিকে বাড়ান কুনিয়া। প্রায় মধ্যমাঠ থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অনেকটা দৌড়ে ক্রোয়েশিয়া বক্সে ঢুকে পড়েন ভিনি। সেখানে তিন ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে বল বাড়ান দানিলোর দিকে। বক্সের ভেতর থেকে দারুণ এক শটে ব্রাজিলকে এগিয়ে (১-০) দেন দানিলো।
তবে এক গোলের লিডে থাকা ব্রাজিলকে স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি ক্রোয়েশিয়া। ম্যাচের ৮৪ মিনিটে লাভ্রো মায়ারের গোলে সমতায় ফেরে ক্রোয়াটরা। এ গোলটাও হয়েছে প্রতিআক্রমণেই। ব্রাজিল অর্ধ থেকে বল পেয়ে ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠা ক্রোয়েশিয়ার হয়ে বক্সের ভেতর ক্রস করেন তনি ফ্রুক। সেই বল নিয়ন্ত্রণে নিতে গোলপোস্ট থেকে কিছুটা এগিয়ে গিয়েছিলেন ব্রাজিল গোলকিপার বেন্তা। তবে বেস্তোকে সুযোগ না দিয়ে বলে পা লাগিয়ে ব্রাজিলের জালে বল জড়ান মায়ার।
ব্রাজিল আবার লিড নিতে বেশি দেরি করেনি। ৪ মিনিট পরই ইগোর তিয়াগোর পেনাল্টি গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। আর যোগ করা সময়ে এনদ্রিকের পাসে স্কোরলাইন ৩-১ করেন মার্তিনেল্লি।






