অনলাইন ডেস্ক
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের শিরোপা জয়ের নায়ক সঞ্জু স্যামসন জানিয়েছেন, তাঁর এই সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছেন ব্যাটিং কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার। ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময়ে শচীনের সঙ্গে আলাপই তাঁকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। রোববার বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়ার পর এই তথ্য জানান ৩১ বছর বয়সী এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার।
স্যামসন জানান, অফ-ফর্ম আর দলে জায়গা হারানো নিয়ে যখন তিনি দুশ্চিন্তায় ছিলেন, তখন বিশ্বকাপের আগের কয়েক মাস তিনি শচীনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলেন।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে স্যামসন বলেন, ‘আমি গত কয়েক মাস ধরে শচীন স্যারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। অস্ট্রেলিয়ায় যখন দলের বাইরে বসে ছিলাম, তখন বুঝতে পারছিলাম না আমার ঠিক কেমন মানসিকতা নিয়ে চলা উচিত। তখনই আমি স্যারের সঙ্গে কথা বলি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। এমনকি গতকালও তিনি ফোন করে আমার খোঁজ নিয়েছেন। তাঁর মতো একজনের কাছ থেকে যখন প্রস্তুতি বা গেম সেন্স নিয়ে পরামর্শ পাওয়া যায়, তখন সেটি অনেক বড় পাওনা। যারা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন, সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ।’
চলতি বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে চরম ব্যর্থ হয়েছিলেন স্যামসন। পাঁচ ইনিংসে করেছিলেন মাত্র ৪৬ রান। এর ফলে তিনি দল থেকে ছিটকে পড়েন এবং তাঁর জায়গায় সুযোগ পান ইশান কিশান। সেই সময়টা তাঁর জন্য খুব যন্ত্রণার ছিল।
নিজের সেই মানসিক অবস্থার কথা তুলে ধরে স্যামসন বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড সিরিজের পর আমি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। মনে হচ্ছিল আমার সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু হয়তো ওপরওয়ালার পরিকল্পনা ভিন্ন ছিল। হঠাৎ করেই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে ফেরার সুযোগ পাই এবং দেশের জন্য নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি।’
সুপার এইট পর্বে দলে ফিরেই বদলে যান স্যামসন। তিনটি বাঁচা-মরার ম্যাচে তিনি ৯৭ (অপরাজিত), ৮৯ ও ৮৯ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন। মাত্র ৫ ম্যাচে ১৯৯.৩৭ স্ট্রাইক রেটে তাঁর মোট রান ৩২১।
স্যামসন মনে করেন, এই সাফল্যের বীজ বোনা হয়েছিল ২০২৪ সালের বিশ্বকাপে, যেখানে তিনি দলের সঙ্গে থাকলেও কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। তিনি বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজে ২০২৪ সালের চ্যাম্পিয়ন দলে আমি ছিলাম, কিন্তু একটা ম্যাচও খেলিনি। তবে আমি কাজ থামাইনি। নিজেকে বলতাম, একদিন সুযোগ আসবেই এবং সেদিন আমাকে তৈরি থাকতে হবে।’
ভারতের এই শিরোপা জয়ে বড় অবদান রাখতে পেরে উচ্ছ্বসিত স্যামসন। তবে পুরো বিষয়টি এখনও তাঁর কাছে স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। আপাতত এই আনন্দের মুহূর্তটুকু উপভোগ করতে চান তিনি।






