মোছাঃ আছমা আক্তার আখি, পঞ্চগড় প্রতিনিধি:
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নে মফিজার রহমান কলেজের প্রিন্সিপাল মোঃ নুরুল্লাহর বাড়িতে সংঘটিত দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
এই ঘটনায় ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী নুরুল্লাহর প্রতিবেশীসহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
উদ্ধার করা হয়েছে লুণ্ঠিত মোবাইল ফোন ও দেশীয় অস্ত্র।
এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে হাফিজাবাদ ইউনিয়নের যুগিভিটা মৌজায় প্রিন্সিপাল নুরুল্লাহর বাড়িতে একদল সশস্ত্র ডাকাত জানালার গ্রিল ভেঙে প্রবেশ করে।
ডাকাতদল অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নগদ ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকা এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় সদর থানায় একটি মামলা (নং-২৮) দায়ের করা হয়।
পুলিশ সুপার, পঞ্চগড়ের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের একটি চৌকস টিম তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। গত ৪ মার্চ রাতে অভিযান চালিয়ে হাফিজাবাদ ও ছিটমহল এলাকা থেকে ৫ জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন: মজিবর রহমান (৩৫), রমজান আলী (৩০), সাদ্দাম হোসেন (৩০), আশিক (১৯) এবং জুবায়ের (১৯)। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৫ মার্চ রাতে জিয়াবাড়ী এলাকা থেকে ডাকাতির মূল পরিকল্পনাকারী মোঃ আলমকে (৩৭) গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত মূল পরিকল্পনাকারী আলম ভিকটিম নুরুল্লাহর প্রতিবেশী। পুলিশ জানায়, দরিদ্রতার অভাব-অনটন এবং জমি বর্গা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে আলম এই ডাকাতির পরিকল্পনা করেন। নূরুল্লাহ সাহেব হজ্জে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেনে আলম তার সহযোগীদের নিয়ে ডাকাতির পরিকল্পনা করেন।
ডাকাতির সময় আলম মুখোশ পরা ছিলেন। শিশুদের কান্না থামাতে তিনি ব্যাগ থেকে কেক ও পানি বের করে খাইয়েছিলেন বলে জানা গেছে। গ্রেফতারকৃত আলম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
আসামীদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ১টি স্মার্টফোন, ১টি সিম কার্ড এবং ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত ১টি সাবল, ১টি ছোট চাকু ও ২টি বড় ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আসামী আলম বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন এবং বাকি ৫ আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২ দিনের পুলিশি রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। লুণ্ঠিত বাকি মালামাল ও অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।