মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ। এ তিন মিলে অর্থনীতিতে চরম ঝুঁকি দেখছেন নীতি নির্ধারকেরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবার সহযোগিতা চায় সরকার। একে তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে না দেখে, দীর্ঘমেয়াদি টেকসই পরিকল্পনার তাগিদ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদেরা। মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক আট এক শতাংশে। দারিদ্র্যের হার বেড়েছে ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত। এমন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে নতুন সরকার। এ ছাড়া জনগণের প্রত্যাশাও অনেক। নীতি নির্ধারকেরা স্বীকার করছেন, অর্থনীতির সব সূচক ভালো নেই। রিজার্ভ ভালো থাকলেও, মূল্যস্ফীতি সন্তোষজনক নয়। অর্থনীতিতে চলমান সংকট, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ। এগুলোকে বাজেট প্রণয়নের বড় চ্যালেঞ্জ মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানান, বর্তমানে রিজার্ভ ভালো অবস্থানে থাকলেও, মূল্যস্ফীতি সন্তোষজনক নয়। গত কয়েক বছরে দেশে নতুন করে কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি, বিনিয়োগও বাড়েনি। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ। বর্তমানে রিজার্ভ ছাড়া সব সূচকই নিম্নমুখী। গভর্নর বলেন, ‘আমাদের মেট্রো ইকোনমিক গ্লোবাল লেভেল ইনডিকেটরের অনেকগুলোর অবস্থাই ভালো নয়।’
অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, গত কয়েকবছরে দেশে দারিদ্র্য বেড়ে গেছে অনেকটা। সেটা মোকাবিলা করা জরুরি। সকল উন্নয়ন সহযোগীদের দেশের বেসরকারি খাত অর্থায়ন বাড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি। স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দামবৃদ্ধিসহ নানা কারণে অর্থনীতির রক্তক্ষরণ হচ্ছে। এমন অবস্থায় এলডিসি উত্তরণ সম্ভব নয়। কয়েক বছর ধরে স্থবির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। তিন থেকে চার শতাংশ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, যা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। এ ছাড়া জ্বালানি সংকট বিনিয়োগের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, পরিস্থিতির উন্নয়নে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সঠিক মূল্যায়ন জরুরি। এড়িয়ে যেতে হবে মেগা প্রকল্প, বাদ দিতে হবে অপ্রয়োজনীয় সরকারি খরচ।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের সোশ্যাল সেফটিনেট স্কিমগুলো চালু রয়েছে সেটি যেন কার্ডের মাধ্যমে একটি আম্ব্রেলার নিচে আসে। অর্থাৎ একই কার্ডে একটি পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা যেন এ মুহূর্তে না দিতে হয়। এভাবে সরকারের ব্যয়ের কাঠামো সংকোচনের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে।’
অর্থনীতিবিদ সাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ‘মেগা প্রকল্পগুলোর প্রায়োরিটি অর্থাৎ কোন প্রকল্পগুলো না করলেই নয় শুধু সেগুলো রেখে অন্যগুলো বিবেচনা প্রসূত সিদ্ধান্ত নিলে সরকার অনেকটা ভালো করবে।’






