1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন

গ্রীষ্মের আগেই বেড়েছে লোডশেডিং

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৩ সময় দর্শন

বিশেষ প্রতিনিধি

দেশে এমনিতেই গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় লোডশেডিং দিতে হয় বিদ্যুৎ বিভাগকে। তার ওপর এ বছর জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে গ্রীষ্ম আসার আগেই সারা দেশে শুরু হয়েছে লোডশেডিং। সামনের দিনগুলোতে লোডশেডিং আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল রোববার দুপুর ১২টায় ১৩ হাজার ৫৩০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১২ হাজার ৮৯৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পেরেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ওই সময় লোডশেডিং দেখানো হয় ৬০৭ মেগাওয়াট। এদিন সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোডশিংয়ের খবর আসে। বিদ্যুৎ বিভাগসহ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। তেলভিত্তিক কেন্দ্রের উৎপাদন এক দিনের ব্যবধানে অর্ধেকে নেমে এসেছে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, ৪ এপ্রিল তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৮০৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। গতকাল এটি নেমে আসে এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াটে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে এসেছে চার হাজার মেগাওয়াটের মতো। ভারতের তিনটি কেন্দ্র (আদানি, ভেড়ামারা ও ত্রিপুরা) থেকে এসেছে গড়ে এক হাজার ৮০০ মেগাওয়াটের মতো।

শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেগুলোতে গ্যাস সরবরাহ করতে গিয়ে সার কারখানাগুলোও প্রায় বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এছাড়া বেসরকারি খাতের তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখতে বকেয়া পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন বেসরকারি উদ্যোক্তরা।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাওনা প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বেসরকারি খাতের তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। ভারতের আদানির কাছ থেকেও দ্বিগুণ দামে বিদ্যুৎ আমদানি করছে সরকার। তাদের বিপুল বকেয়ার জন্য চাপ আসছে। চলতি গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে ২০ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে পিডিবি। এ টাকা না পেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না।

কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুতের চাহিদা ১৫ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। তাদের পক্ষে এটির জোগান দেওয়া খুবই কঠিন হবে। বিদ্যমান যুদ্ধাবস্থায় চাহিদামতো গ্যাস, কয়লা ও ফার্নেস ওয়েল জোগান দেওয়াও কঠিন হবে বলে মনে করছেন তারা।

উৎপাদন ঘাটতির তথ্য তুলে ধরে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গত ১ এপ্রিল রাত ১২টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৩ হাজার ৩৩৫ মেগাওয়াট। ওই সময় ন্যাশনাল গ্রিডে (জাতীয় সঞ্চালন লাইন) সরবরাহ হয় ১৩ হাজার ৩৩৫ মেগাওয়াট। ফলে ওই দিন দেশ ছিল লোডশেডিংমুক্ত।

২ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ওই দিনের সর্বোচ্চ চাহিদা দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। ওই সময় সরকার জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারে ১৪ হাজার ৮৬৪ মেগাওয়াট। সেদিন ৫১২ মেগাওয়াট লোডশেডিং রেকর্ড করে পিজিসিবি। ৪ এপ্রিল রাত ১১টায় ১৫ হাজার ১০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয় ১৩ হাজার ৯৬৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। ওই দিন সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয় এক হাজার ৭৫ মেগাওয়াট। সব মিলিয়ে ঘাটতি পূরণ সম্ভব না হলে সামনের দিনগুলোতে লোডশেডিং আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host