সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার শ্যামনগর প্রেসক্লাবে ঢুকে সভাপতি সামিউল মনিরের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে যুবদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন প্রেসক্লাব ভবনে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা তাকে মারধর করতে করতে ভবনের বাইরে নিয়ে যায়। হামলার শিকার সামিউল মনির জাতীয় দৈনিক সমকাল এবং স্থানীয় দৈনিক পত্রদূত-এর শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি। খবর পেয়ে শ্যামনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রেসক্লাবে উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান, সোমবার দুপুরে শ্যামনগর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনোয়ারুর ইসলাম আঙ্গুর, যুবদল নেতা মিজান, মফু খাঁসহ নেতাকর্মীরা শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ‘শ্যামনগরের সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি প্রেসক্লাব চত্বরে এসে মানববন্ধনে অংশ নেয়। মানববন্ধনে তারা প্রেসক্লাব সভাপতি সামিউল মনিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে যুবদলের সদস্য সচিব আঙ্গুর, বাবলু, মিজান, মতলেবসহ ২৫-৩০ জন নেতাকর্মী হঠাৎ প্রেসক্লাব ভবনে ঢুকে সেখানে অবস্থানরত সভাপতি সামিউল মনিরের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় উপস্থিত অন্যান্য সাংবাদিকদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও অসদাচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, হামলাকারীরা সভাপতিকে মারধর করতে করতে প্রেসক্লাব ভবনের বাইরে নিয়ে যান এবং ইট, হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। আহত মনিরকে তাৎক্ষণিকভাবে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক শাকির হোসেন জানান, তার মাথার বাম পাশে শক্ত বস্তু দিয়ে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন অংশে হাতুড়ি ও লোহার রডের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সমকাল-এ ‘যুবলীগ-যুবদল-যুব বিভাগ মিলে খোলপেটুয়া-কপোতাক্ষ নদের বালু লুট’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকে সামিউল মনিরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে জানা গেছে। তবে হামলার বিষয়ে আনোয়ারুর ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।







