ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটের আগের দিন থেকে গতকাল পর্যন্ত দেশের ২০ জেলার অন্তত ২৫ স্থানে সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় দুইজন নিহত এবং দুই শতাধিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
রোববার খুলনায় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের হামলায় বিএনপির এক প্রার্থীর দুই সমর্থক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর এক সমর্থককে মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এর আগে শুক্রবার মুন্সীগঞ্জ ও বাগেরহাটে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় বিদ্রোহী প্রার্থীর দুই সমর্থক নিহত হন। খুলনার ঘটনায় জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে খুলনা-৫ আসনের ফুলতলা উপজেলার মশিয়ালী গ্রামের আকুঞ্জিপাড়ায় শোকর আকুঞ্জি নামে জামায়াতের এক নেতার বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। স্থানীয়রা দ্রুত পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। শোকর আকুঞ্জির অভিযোগ, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে কাজ করায় ভোটের পর থেকেই একই আসনের বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের পক্ষ থেকে হুমকি পাচ্ছিলেন; তারাই এ অগ্নিসংযোগ ঘটিয়েছে। খানজাহান আলী থানা জামায়াতের আমির সৈয়দ হাসান মাহামুদ জানান, শোকর আমাদের সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। তার বড় ছেলে রমজান আকুঞ্জি জামায়াতের রুকন ও ইউনিট সভাপতি এবং ছোট ছেলে আবদুর রাজ্জাক শিবিরের ওয়ার্ড সভাপতি। ঘটনার প্রতিবাদে রোববার বিকেলে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। তবে খানজাহান আলী থানার ওসি সানওয়ার হোসাইন বলেন, অন্ধকারে কারা আগুন দিয়েছে তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি। যদিও স্থানীয়রা জানান, শোকর আর তার ছেলেরা ২০২৪-এর জুলাই দাঙ্গার পর থেকে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। এলাকার অনেক শান্তিপ্রিয় মানুষ এবং আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাদের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এমনকি বিএনপির লোকজনের সাথেও তাদের বিবাদ রয়েছে। নির্বাচনের আগে এসব নিয়ে বিএনপির কর্মীদের সাথে তাদের বাপ-ছেলেদের দফায় দফায় গণ্ডগোল হয়েছে। এজন্যই হয়ত কেউ শোধ নিয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের নদীপাড় এলাকায় দুপুরে বিএনপির এক নেতা ও তার স্বজনের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। আহতরা হলেন- মজলিশপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান ও তার চাচাতো ভাই নায়েব আলী; তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহতদের পরিবার জানায়, ভোটের আগের দিন রাতে আমিরপাড়া গ্রামের একটি ভোটকেন্দ্রে আগাম ভোট দিয়ে ব্যালট বাক্স ভর্তির ঘটনা ঘটছিল। যা প্রতিহত করতে ছুটে যান মিজানুর ও স্থানীয় যুবদল সভাপতি জহিরুল হক। তারা সেখান থেকে টাকা বিতরণকালে ইউনিয়ন জামায়াতের সহসভাপতি মো. আব্দুল্লাহকে হাতেনাতে আটক করেন। এ ঘটনার জেরে গতকাল রোববার মিজানুর ও তার ভাইয়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। আহত মিজানুর রহমান বলেন, ইউনিয়ন জামায়াতের সহসভাপতি মো. আব্দুল্লাহকে ভোটের আগের রাতে টাকাসহ আটক করায় গতকাল তিনি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমার ওপর হামলা চালান। হামলায় আমার ডান হাতে আঘাত লাগে। বাঁচাতে এগিয়ে এলে চাচাতো ভাই নায়েব আলীকেও তারা মারধর করে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল্লাহ বলেন, নদীর পাড়ে একটি ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি। আমার ভাই কালন মিয়াকে উদ্দেশ করে মিজানুর রহমানসহ কয়েকজন বলছিলেন, ‘হের ভাই জামায়াতের নেতা, জামায়াত কীভাবে এত ভোট পেয়েছে, বিষয়টি দেখার আছে।’ এ নিয়ে আমার ভাইয়ের সঙ্গে মিজানুরের কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এতে মিজানুর পড়ে গিয়ে আহত হয়ে থাকতে পারে।
এ ছাড়া রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর এক সমর্থককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ধানের শীষ প্রতীকের কর্মী-সর্মথকদের বিরুদ্ধে। গত শনিবার দুপুরে পুঠিয়ার বিড়ালদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে আহত আহসান হাবীবকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহসান হাবীব এই আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ইসফা খায়রুল হকের (শিমুল) ঘোড়া প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছেন। হাবীব অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে কাজ করেছি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ধানের শীষের সমর্থকরা আমার ওপর হামলা চালায়।