এ প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস সকালে বলেন, যতদূর জানা গেছে, ভোর ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আমাদের বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট আসছে, তারা এসে ঘটনাস্থল পরীক্ষা করবেন। আরও কোনো আলামত বা অবিস্ফোরিত কিছু আছে কি না দেখার পর আমরা আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু করব। তিনি আরও বলেন, আমরা লাশের কাছে যেতে পারিনি, লাশগুলো বিকৃত অবস্থায় আছে। এলাকাবাসীর মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছি। এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বোমা তৈরি বা মজুত করার সময় এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। বিস্তারিত তদন্তের পর জানা যাবে প্রকৃত ঘটনা।
স্থানীয় চরবাটান ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণের শব্দ শুনেই তাৎক্ষণিক আমার চৌকিদারকে বলি দেখার জন্য কোথায় কী ঘটল। সে এসে জানায় কালামের বাড়িতে দুইজন স্পট ডেড। আরও কিছু লোক আহত ছিল, তাদের আত্মীয়-স্বজনরা তাদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। ইউপি সদস্য আরও জানান, নিহত দুজনকে হাসপাতালে নেওয়া যায়নি। তাদের শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ে ছিল। তারা এক ঘণ্টা ধরে ‘পানি পানি’ বলে চিৎকার করেছে, কিন্তু বোমা আছে ভেবে কেউ ভয়ে কাছে যায়নি। রফিকুল ইসলাম বিস্ফোরণের ভয়াবহতা সম্পর্কে বলেন, এমন একটা বোমা যদি কোনো জনবহুল স্থানে বিস্ফোরিত হতো, তবে অন্তত ৫০০ লোক মারা যেত—এতটাই বিকট শব্দ ছিল।
স্থানীয়দের মতে, কোনো জঙ্গি সংগঠন মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে আবারও। কারো মতে, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা বা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জেরে এই বোমাগুলো তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। একজন মুদি দোকানি বলেন, বিস্ফোরণ ঘরের ভেতরে হয়েছে এবং এতে ঘরের টিন অনেক উঁচুতে উড়ে গেছে, তাতেই বোঝা যায় এটা বোমা তৈরির সময় ঘটেছে। তিনি জানান, বাড়িটির মালিক কালামের রাজনৈতিক পরিচয় না থাকলেও তার ভাই দুলাল এবার নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে কাজ করেছে। মিছিল মিটিংয়ে সরব ছিলেন। বাড়িটি নিরিবিলি স্থানে হওয়ায় বোমা তৈরির জন্য নিরাপদ মনে করেছিল হয়ত। স্থানীয়রা এই ঘটনায় প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারের আর্জি জানান।







