1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
লক্ষ্মীপুরে বৈষম্যবিরোধী, ছাত্রদল ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখি সংঘর্ষ: ওসিসহ আহত ১০ মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তনের প্রবণতা সংস্কৃতির ওপর অযাচিত হস্তক্ষেপ: উদীচী ধোঁয়াশায় বিজিবি-বিএসএফ: গুলিবিদ্ধ সাদ্দামের লাশ ওপারেই, ফিরবে কবে? তেরখাদায় সরকারি বরাদ্দের ব্রিজ নির্মাণে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ নেত্রকোণায় দুই হিন্দু আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে আগুন ওসিসহ আহত ২০, বৈষম্যবিরোধীদের সঙ্গে পুলিশ-ছাত্রদলের সংঘর্ষ জ্বালানি খাত নিয়ে দুঃসংবাদ শোনালেন অর্থমন্ত্রী হামের উপসর্গে একদিনে ১২ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৭৪ এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার, গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ কুষ্টিয়ায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু

সাদা জার্সির আস্ফালন: রিয়াল মাদ্রিদ কি ফুটবল বিশ্বের চিরস্থায়ী ভিলেন?

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৭২ সময় দর্শন
মোহাম্মদ সিয়াম খান

মোহাম্মদ সিয়াম খান, ঢাকা প্রতিনিধি:

​ফুটবল দুনিয়ায় দুটি পক্ষ আছে। এক পক্ষ যারা রিয়াল মাদ্রিদকে ঘৃণা করে, আর অন্য পক্ষ যারা রিয়াল মাদ্রিদকে সমর্থন করে। মাঝখানে কোনো ধূসর এলাকা নেই। কেন এই বিভক্তি? কারণ, রিয়াল মাদ্রিদ কখনোই ‘আন্ডারডগ’ হওয়ার নাটক করেনি। তারা যখন জেতে, তখন স্রেফ জেতে না—তারা প্রতিপক্ষের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়ে বুঝিয়ে দেয় যে, এই সিংহাসনটি কেবল তাদের জন্যই সংরক্ষিত।

​ভাগ্য না কি মানসিক দাপট?

​অনেকে খুব সস্তায় একটি শব্দ ব্যবহার করেন— ‘ভাগ্য’। যখন ৯২ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে সার্জিও রামোস গোল করেন, বা যখন হারের মুখ থেকে বেনজেমা হ্যাটট্রিক করে দলকে টেনে তোলেন, তথাকথিত ফুটবল পণ্ডিতরা একে ‘মিরাকল’ বলে চালিয়ে দিতে চান। কিন্তু সত্যটা অনেক বেশি নিষ্ঠুর। রিয়াল মাদ্রিদ ভাগ্য দিয়ে জেতে না, তারা জেতে প্রতিপক্ষের মনে ভয় ঢুকিয়ে দিয়ে। এই সাদা জার্সির একটি আলাদা ওজন আছে, যা বার্নাবেউয়ের ঘাসে নামলে প্রতিপক্ষের পা কাঁপিয়ে দেয়। এটি ভাগ্য নয়, এটি হলো ‘উইনিং ডিএনএ’—যা কেনা যায় না, অর্জন করতে হয়।

ব্যর্থতার রোমান্টিকতা এখানে নিষিদ্ধ

​আধুনিক ফুটবলে অনেকে সুন্দর খেলে হারার মধ্যেও এক ধরণের কাব্যিক আনন্দ খুঁজে পান। মাদ্রিদে সেই বিলাসিতার ঠাঁই নেই। এখানে পরাজয় মানেই সংকট, এখানে দ্বিতীয় হওয়া মানেই ব্যর্থতা। যারা বড় বড় ক্লাবের প্রজেক্ট আর ট্যাকটিকাল মাস্টারক্লাস নিয়ে গলা ফাটান, তারা মাদ্রিদের দিকে তাকিয়ে অবাক হন। মাদ্রিদ কোনো নির্দিষ্ট সিস্টেমে আটকে থাকে না; মাদ্রিদ স্রেফ জিততে জানে। ক্যাসিয়াস থেকে কর্তোয়া, রাউল থেকে ভিনিসিয়ুস—নাম বদলায়, কিন্তু সেই ‘নিষ্ঠুর জয়ের ক্ষুধা’ কখনো বদলায় না।

গ্যালাকটিকো বনাম লিগ্যাসি

​সমালোচকরা বলেন, রিয়াল মাদ্রিদ মানেই টাকার খেলা। কিন্তু টাকার জোরে যদি ইতিহাস গড়া যেত, তবে ইউরোপের মানচিত্র আজ অন্যরকম হতো। মাদ্রিদ শুধু তারকা কেনে না, তারা তারকাদের শেখায় কীভাবে কিংবদন্তি হতে হয়। লুকা মদ্রিচ কিংবা টনি ক্রুস যখন মাঝমাঠে ছড়ি ঘোরান, তখন সেটা শুধু পাসিং গেম থাকে না—সেটা হয় ফুটবলের এক রাজকীয় শাসন। তারা জানেন, এই ক্লাবে এক ম্যাচ খারাপ খেলা মানেই হাজারো শিসধ্বনি। এই চাপ সহ্য করার ক্ষমতা সবার থাকে না বলেই সবাই ‘মাদ্রিদিস্তা’ হতে পারে না।

শেষ কথা: ঘৃণা করুন, কিন্তু অস্বীকার করবেন না

​আপনি রিয়াল মাদ্রিদকে অপছন্দ করতে পারেন, তাদের অহংকারকে ঘৃণা করতে পারেন। কিন্তু যখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেই পরিচিত সুর বাজে, তখন আপনিও জানেন রাজা কারা। তারা ইতিহাস কেবল লেখে না, তারা ইতিহাসকে নিয়ন্ত্রণ করে। যারা নস্টালজিয়ায় ভোগেন, তারা মাদ্রিদকে দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। আর যারা বর্তমানকে দেখেন, তারা মাদ্রিদকে দেখে কুর্নিশ করেন। ​কারণ দিনশেষে, রিয়াল মাদ্রিদ কোনো ক্লাব নয়; এটি ফুটবলের সেই পরম সত্য, যা বারবার প্রমাণ করে—রাজা বদলায়, কিন্তু রাজত্বটা চিরকাল সাদারাই শাসন করে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host