তার দেশ ছাড়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে রবিবার রাতে বেসরকারি এক টেলিভিশনকে বলেন, ‘আমি দেশেই আছি। অনেক কাজ বিসিবিতে। কোথাও যাচ্ছি না। কালও অফিসে এসে কাজ করব।’ তবে অস্বীকার করার এক নাটকীয় মহড়া শেষে অবশেষে দেশ ত্যাগ করেছেন।
বিসিবি প্রধান রবিবার গভীর রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়েন, সেখানে তার পরিবার বসবাস করে। সন্ধ্যার পর থেকেই ব্যাপক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল যে, বুলবুল ওই রাতেই অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হতে পারেন। গণমাধ্যমের খবর বুলবুলকে বিষয়টি পরিষ্কার করতে বাধ্য করে। এর ফলে তিনি বিসিবিতে কাজ করছেন এবং অদূর ভবিষ্যতে দেশ ছাড়ছেন না বলে জোর দাবি জানিয়ে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন।
’স্টার প্লে’-এর সঙ্গে আলাপকালে বুলবুল বলেন, বোর্ডের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ থাকা সত্ত্বেও তিনি সারাদিন অফিসে কাটিয়েছেন এবং পরের দিনও কাজ চালিয়ে যাবেন।
বুলবুল বলেন, ‘আমার পরিবারের কাছে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা কখনোই ছিল না এবং সেটি আমার ব্যক্তিগত বিষয়।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বর্তমানে তিনি কোথাও ভ্রমণে যাচ্ছেন না। তিনি আরও যোগ করেন যে, তিনি ক্রিকেট বোর্ডের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন এবং এর বিপরীতে আসা খবরগুলোর উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
বুলবুল যখন এই ব্যাখ্যা দিচ্ছিলেন, তখন চারদিকে খবর ছড়িয়ে পড়েছিল যে, তিনি রবিবার রাতে ‘পারিবারিক কারণ’ দেখিয়ে ওয়ান-ওয়ে (একমুখী) টিকিটে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। বুলবুল সতর্ক করে বলেন যে, ভুল তথ্য প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজের গতি কমিয়ে দেয়। তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা সত্য বলার চেষ্টা করি এবং আসল কাজ করি।’
তবে, সোমবার বিমানবন্দর সূত্র নিশ্চিত করেছে যে তিনি অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছেন। বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করে বলেন, ‘হ্যাঁ, তিনি (বুলবুল) আজ রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।’
সূত্রটি আরও যোগ করেন, ‘তিনি কবে ফিরবেন তা আমি নিশ্চিত নই, তবে সাধারণত তিনি দুই সপ্তাহের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যান এবং এবারও তেমনটি হতে পারে।’ এর বেশি তিনি আর কিছু বলতে রাজি হননি।
তবে জানা গেছে বুলবুলের এই ছুটি স্থায়ী হতে যাচ্ছে। বিসিবি সভাপতি পদে তার ফেরার সম্ভাবনা কম।