অনলাইন ডেস্ক
টাইটেল স্পন্সর নেই, ট্রফি তৈরি হয়নি, বিজ্ঞাপনি ডিজিটাল বোর্ড আটকা বেনাপোল বোর্ডারে- এমন চূড়ান্ত বিশৃঙ্খল অবস্থায় আগের দিনই মালিকানা ছেড়ে দেয় একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি। আরেক দল অনুশীলন করতে পারেনি বল সংকটে। জোড়াতালি দিয়ে তবু শুক্রবার সিলেটে বিপিএলের নতুন আসর শুরু হয়েছে। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দুপুরে উদ্বোধনের পর মুখোমুখি হয়েছে সিলেট টাইটান্স ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
বিপিএলের আগে রীতি হচ্ছে ট্রফি নিয়ে সব অধিনায়কদের ফটোসেশন। কিন্তু ট্রফি তৈরি না হওয়ায় সেই আয়োজন হয়নি। এমনকি সব দলের অধিনায়কের নামও চূড়ান্ত না। আগের দিন বিপিএল থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয় চট্টগ্রাম রয়্যালসের মালিকপক্ষ। পরে দলটির দায়িত্ব নেয় বিসিবি। এই দলে খেলার জন্য কোন বিদেশি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আসেননি। অথচ টুর্নামেন্টের নিয়ম হচ্ছে একাদশে থাকতে হবে কমপক্ষে দুজন বিদেশি খেলোয়াড়। সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের মুখোমুখি হবে যে নোয়াখালী এক্সপ্রেস, তাদের অনুশীলনের জন্য নেই পর্যাপ্ত বল। অনুশীলনে মাত্র ৩ বল দেওয়ায় মালিকপক্ষের সঙ্গে রেগে চলে গিয়েছিলেন কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন ও তালহা জুবায়ের। পরে বুঝিয়ে আবার তাদের ফেরানো হয়েছে।
এদিকে বিপিএলের গর্ভনিং কাউন্সিলের সদস্য সচীব ইফতেখার রহমান মিঠু তবু আশাবাদী বিপিএল সফলভাবে শেষ করা নিয়ে। যদিও তার ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার তাপস বৈশ্য মিঠুকে উদ্দেশ্যে করে দেন ফেসবুক পোস্ট।
তিনি লিখেছেন, “জনাব মিঠুভাই (বিসিবি পরিচালক) আপনি উঠতে বসতে মিথ্যা কথা বলেন, টিম যাচাই বাছাইয়ের আগে কতো না কথা বললেন, টিম গুলোর এই দেখছেন সেই দেখছেন ১২টি অনুরোধ থেকে ৫টা পরবর্তীতে আরো একটা মোট ৬টা দল নিয়েছেন দেখেশুনে! আপনার চোখ আছে না অন্ধ!? এতো দূরে বসে আমিও তো জানি অন্তত আরো ২টা দল আপনাদের ভোগাবে…. অপেক্ষা করুন! আর একটা কথা এবারও ম্যাচ ফিক্সিং হবে কারণ দেশ-বিদেশের সকল ফিক্সিং মাফিয়ারা বসে আছে খেলা কখন শুরু হবে আর তারাও ২/৩ ম্যাচ পরে তাদের খেলা শুরু করবে…… অপেক্ষা করুন………….”।
তবে, এবার আর্থিক সংকটে বিপিএল করতে চায়নি বিসিবির এক অংশ। কিন্তু আসিফ মাহমুদ সজীব ক্রীড়া উপদেষ্টা থাকাকালীন জোর করেই বিপিএল করতে বিসিবিকে বাধ্য করেন। কিন্তু পেশাদার দল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। শুরুতে ৫ দল ঠিক করা হলেও এভাবে ফরম্যাট করা যাচ্ছিলো না, বাধ্য হয়ে বাড়ানো হয় এক দল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আসর শুরুর আগেই সরে যায় সেই দলের মালিকপক্ষ। এরমধ্যে বিশ্বের একটি টেস্ট খেলুড়ে দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে টাইটেল স্পন্সর পর্যন্ত না পাওয়া জন্ম দিয়েছে বিস্ময়ের।