দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় যাত্রা শুরু করছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। সংবিধান মেনে নির্বাচনের এক মাসের মধ্যেই ১২ মার্চ বসছে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন। স্পিকার নির্বাচন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে শুরু হচ্ছে এই অধিবেশন। নীতি নির্ধারণ, আইন প্রণয়ন ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রাণবন্ত সংসদ আশা করছেন বিশ্লেষকেরা।
১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় বিএনপি। নির্বাচনের পাঁচ দিন পর ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। একই দিনে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও শপথ নেন।
সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচনের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহ্বান বাধ্যতামূলক। সেই বিধান মেনেই রাষ্ট্রপতির আহ্বানে আগামী ১২ মার্চ বেলা ১১টায় বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। সংসদের প্রথম বৈঠকেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। এর মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে নতুন সংসদের কার্যক্রম।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দলীয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আগামী ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে। এদিন নীতি নির্ধারণ, স্পিকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হবে, রাষ্ট্রপতির ভাষণ হবে।’
প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হবে। সেগুলোর অনুমোদন, সংশোধন অথবা বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সংসদ। এ ছাড়া প্রয়াত সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণে শোক প্রস্তাবও গ্রহণ করা হবে।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন প্রায় এক মাস চলবে। এ সময় রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব এনে আলোচনা হবে।
সরকারি দলের পক্ষ থেকে সংসদকে প্রাণবন্ত ও কার্যকর করতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করারও চেষ্টা থাকবে বলে জানিয়েছেন হুইপরা।
জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘যেহেতু স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার নেই সংসদে উপস্থিত সদস্যদের মধ্য থেকে একজন সভাপতি থাকবেন।’
সংসদের প্রথম বৈঠকে স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সভাপতিত্ব করবেন সরকারি দলের একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্য। পরে দায়িত্ব গ্রহণের পর অধিবেশন পরিচালনা করবেন নতুন স্পিকার।






