রাষ্ট্রপতির পুনর্বিবেচনার আওতায় আজ ৯ই মার্চ, সোমবার প্রায় সাড়ে ১৬ বছর আগের বরখাস্তের আদেশ বাতিল করে তাকে সরকারি চাকরির সব সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়েছে। এ আদেশের ফলে পুলিশে চাকরি ফিরে পেলেন এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত পুলিশ কর্মকর্তা। বরখাস্ত বাতিলের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।
বিসিএস ১২ ব্যাচের এ পুলিশ কর্মকর্তার বরখাস্তকালীন সময়কে ‘চাকরিকাল’ হিসেবে গণ্য করে তাকে প্রাপ্য বকেয়া বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা দেয়ার কথা বলা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশে। এদিন মন্ত্রণালয়ের এ বিষয়ক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কোহিনূর মিয়ার ‘বরখাস্তকরণের’ গুরুদণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন রাষ্ট্রপতি মঞ্জুর করেছেন। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ‘তার গুরুদন্ডাদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মঞ্জুরপূর্বক আরোপিত ‘চাকরি হতে বরখাস্তকরণ’ গুরুদন্ডাদেশটি বাতিল করা হয়।’
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ৪ঠা অক্টোবর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বরখাস্ত করা হয় ডিসি কোহিনূর মিয়াকে।
২০০২ সালের ২৩শে জুলাই গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলে আন্দোলনরত ছাত্রীদের ওপর হলের ফটক ভেঙে হামলা চালায় পুলিশ। সেই হামলার পেছনে আলোচিত ছিলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
আওয়ামী লীগসহ বিরোধীদলের জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীদের ওপর অকথ্য নির্যাতন, নিপীড়ন চালিয়ে তুমুল সমালোচিত হন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এছাড়াও, ২০০৬ সালের ১২ই মার্চ ধানমন্ডির রান প্লাজার সামনে পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন এক নারী। তৎকালীন বিরোধীদল আওয়ামী লীগের নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচি চলার সময় শাহিনা সুলতানা শান্তা নামে এক নারী তার ছেলেকে বিদ্যালয় থেকে নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। সেই ঘটনার দুদিন পর তিনি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ঢাকা মহানগর পুলিশের তখনকার উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মাজহারুল হক, উপ-কমিশনার (পশ্চিম) কোহিনুর মিয়া ও কনস্টেবল রুহুল আমীনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগে একটি মামলা করেন।