গণ-অভ্যুত্থানে সরকারপতনের পর নেপালের নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলে দেখা যাচ্ছে, বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছে। ফলে দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন বালেন্দ্র। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বালেন্দ্র শাহর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের (ইউএমএল) সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এবং নেপালি কংগ্রেসের গগন থাপা। এখন পর্যন্ত বালেন্দ্র শাহর আরএসপি ১৬৫টি সরাসরি নির্বাচিত আসনের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি জায়গায় এগিয়ে আছে। নেপালি কংগ্রেস আছে দ্বিতীয় অবস্থানে, আর ইউএমএলের অবস্থান তৃতীয়। চূড়ান্ত ফল আসতে কয়েক দিন সময় লেগে যেতে পারে।
কে এই বালেন্দ্র শাহ?
৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ নেপালে ‘বালেন’ নামেই বেশি পরিচিত। তিনি কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বালেন মূলত একজন র্যাপ সংগীতশিল্পী। তাঁর গানগুলোর মধ্যে নানা সামাজিক বার্তা রয়েছে, যা তাঁকে দেশটিতে বেশ জনপ্রিয় করে তুলেছে। বালেনের সবচেয়ে পরিচিত গানগুলোর একটি ‘বালিদান’ ইউটিউবে মিলিয়ন ভিউ পেয়েছে। গত বছর নেপালে গণ-অভ্যুত্থানের সময় তরুণদের মধ্যে বালেন্দ্র শাহর জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়। সেই অভ্যুত্থানের সময় বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে ৭৭ জন মারা যান। একপর্যায়ে দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেপি ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। ৭৪ বছর বয়সী ওলি এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সে সময় বালেন্দ্র শাহ বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দেন এবং কেপি ওলিকে ‘সন্ত্রাসী’ বলে আখ্যা দেন। বালেন্দ্র শাহ ও কেপি ওলি একই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ঝাপা–৫ আসন বরাবরই ওলির শক্ত ঘাঁটি। তবে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলে দেখা যাচ্ছে, বালেন্দ্র এখানে বেশ ভালো ব্যবধানেই এগিয়ে আছেন।
যেভাবে নির্বাচিত হন নেপালের সরকারপ্রধান
বৃহস্পতিবার নেপালের পরবর্তী নেতার পাশাপাশি পার্লামেন্টের ২৭৫ সদস্য নির্ধারণের জন্য ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। মূলত সরাসরি ভোট (ফার্স্ট পাস্ট দ্য পোস্ট) এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থার সমন্বয়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একজন ভোটার দুটি করে ভোট দিয়েছেন। নেপাল পার্লামেন্টে ১৬৫ জন সদস্য নির্বাচিত হবেন সরাসরি ভোটে। যিনি সর্বোচ্চ ভোট পাবেন, তিনিই সংসদ সদস্য হবেন। আর ১১০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন জাতীয়ভাবে কোনো রাজনৈতিক দল কত শতাংশ ভোট পেয়েছে, তার ভিত্তিতে। দেশটির নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার হার ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ।
গত বছরের গণ-অভ্যুত্থানের পর নেপালের এই নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। গত তিন দশক ধরে নেপালে বরাবরই জোট সরকার গঠিত হয়েছে। এর নেতৃত্বে ছিল মূলত তিনটি রাজনৈতিক দল।
কিন্তু এবার কোনো দলই জাতীয় জোট করেনি। এ ছাড়া এবারের নির্বাচনে অনেক নতুন প্রার্থী দেখা গেছে। যদি বালেন্দ্র শাহ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন, তবে এটি হবে নেপালের রাজনীতিতে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন।







