1. admin@shwapnoprotidin.com : admin : ddn newsbd
শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন

রাশিয়ান তেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ছাড়পত্র পেয়েছে ভারত

প্রতিবেদকের নাম :
  • আপডেটের সময় : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৮৯ সময় দর্শন

অনলাইন ডেস্ক

কূটনৈতিক দক্ষতার জোরে ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে সাময়িক স্বস্তি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ পশ্চিম এশিয়ায় (ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে) সৃষ্ট জ্বালানি সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় ভারতীয় রিফাইনারিগুলোকে রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য কেনার জন্য ৩০ দিনের বিশেষ ছাড় (ওয়েভার) দিয়েছে।

এই ছাড় শুধুমাত্র সমুদ্রে ইতিমধ্যে লোড করা তেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যাতে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকে এবং দামের অস্থিরতা কমানো যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পোস্ট করে এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “বিশ্ববাজারে তেল প্রবাহ অব্যাহত রাখতে ট্রেজারি বিভাগ ভারতীয় রিফাইনারিদের রাশিয়ান তেল কেনার জন্য সাময়িক ৩০ দিনের ওয়েভার জারি করছে। এটি একটি স্টপগ্যাপ ব্যবস্থা, যা ইরানের বিশ্ব জ্বালানিকে জিম্মি করার চেষ্টার চাপ কমাবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এই ব্যবস্থা রাশিয়ান সরকারকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সুবিধা দেবে না, কারণ এটি শুধু সমুদ্রে আটকে থাকা তেলের লেনদেনের অনুমতি দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের অধীন অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (OFAC) রাশিয়া-সংক্রান্ত জেনারেল লাইসেন্স ১৩৩ জারি করে এই অনুমোদন দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে সকাল ১২:০১ টা (ইস্টার্ন স্ট্যান্ডার্ড টাইম) বা তার আগে জাহাজে লোড করা রাশিয়ান উৎসের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের বিক্রি, সরবরাহ বা আনলোডিং-সংক্রান্ত লেনদেন অনুমোদিত। এই ছাড় ৪ এপ্রিল ২০২৬ সকাল ১২:০১ টা (ইস্টার্ন ডে লাইট টাইম) পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। লেনদেন শুধুমাত্র ভারতের বন্দরে হতে হবে এবং ক্রেতা ভারতীয় আইনের অধীনে গঠিত সত্তা হতে হবে।

এই পদক্ষেপের পেছনে প্রধান কারণ হলো ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে স্ট্রেইট অব হরমুজের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচল পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া, যার ফলে পারস্য উপসাগর থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্বের প্রায় ২০% তেল এই পথ দিয়ে যায়। ফলে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বাড়ছে এবং সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। ভারত, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার তেলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল এবং ভারতকে রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করার জন্য চাপ দিয়েছিল—এমনকি শাস্তিমূলক শুল্কও আরোপ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সংকটে এই সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছে, যাতে বিশ্ব জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল থাকে।

ভারতের জন্য এটি তাৎক্ষণিক স্বস্তি হলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার দুর্বলতা প্রকাশ করে এবং বৈচিত্র্যময় সরবরাহ উৎসের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরও খবর
২০২5© এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ*
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: Smart iT Host